ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

৭ কার্তিক ১৪৩৩, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রাখায় শিক্ষক-অভিভাবক সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:৪৫, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রাখায় শিক্ষক-অভিভাবক সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত

তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন চালাচ্ছেন। বিদ্যালয়ে পরীক্ষা বন্ধ রাখায় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পিরোজপুর, পাবনা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষকের সঙ্গে অভিভাবকদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জামালপুর সদর, শেরপুরের শ্রীবরদী, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ কিছু এলাকায় অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বৃহস্প্রতিবার কিছু শিক্ষকনেতাকে বদলি করেছে। বদলি করা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষকনেতা মোহাম্মদ শামসুদ্দিন ও খায়রুন নাহার লিপি। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক খায়রুন নাহার লিপি জানান, ‘আমাদের নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষকদের হয়রানি করার জন্য ঢালাওভাবে বদলি করা হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে বৈঠক চলছে, আরো কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে।’

চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতিতে শিক্ষকেরা বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রাখেন। ফলে দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় পরীক্ষা না নেওয়ায় এক শিক্ষক ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। নেছারাবাদে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে দুই দফা মারামারি হয়েছে, এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। সহকারী শিক্ষক রাজিব সরকার মাথা ফেটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কিছু এলাকায় অভিভাবকরা তালা ভেঙে স্কুলে ঢুকে পরীক্ষা নেন। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ১৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র দু-তিনটি ছাড়া অন্য কোথাও পরীক্ষা হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্কুল ফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর অভিভাবকরা কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষা নিয়েছেন। কুষ্টিয়ার ১৮ নম্বর লাহিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকেরা প্রশ্ন বিতরণ, খাতা সংগ্রহ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করেছেন।

জামালপুর সদর উপজেলার গুয়াবাড়ীয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক রেনুকা বেগম বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা বছরের পর বার্ষিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছে। শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন, তাই আমরা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মিলিত হয়ে পরীক্ষা শুরু করেছি।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, ‘১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে। পে-কমিশনের সুপারিশও চূড়ান্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের এই পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করা উচিত ছিল।’

এদিকে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সহকারী শিক্ষকরা রাজধানীর শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ৮ নভেম্বর। পুলিশি নির্যাতনের পর ৯ নভেম্বর থেকে সারা দেশে কর্মবিরতি চলে। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ১১তম গ্রেডের আশ্বাসে কর্মবিরতি শেষ হয়। তবে নভেম্বর শেষে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ৩০ নভেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএইচ

আরও পড়ুন