ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

গোসলের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল-ধর্ষণচেষ্টা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২:১৫, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৬, ১৪ আগস্ট ২০২৬

গোসলের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল-ধর্ষণচেষ্টা

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক নারীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার ভেলুর খামার দুর্গাপুর এলাকার এক গৃহবধূর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন একই গ্রামের বাসিন্দা মো. আনারুল ইসলাম (৩০)।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম গোপনে গোসলখানায় ক্যামেরা রেখে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, আনারুল ইসলাম ভিডিওটি মুছে দেওয়ার কথা বলে বিনিময়ে তাকে আরও একটি ভিডিও দিতে বলেন। উপায় না পেয়ে ওই নারী অভিযুক্তের কথায় রাজি হয়ে আরেকটি ভিডিও দেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগের ভিডিওসহ নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভুক্তভোগী নারী বাড়িতে একা ছিলেন। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করেন। পরে দরজা বন্ধ করে তাকে জাপটে ধরেন এবং খাটে শুইয়ে দেন। এরপর তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেন।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে গোসলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ভুক্তভোগী ফোন কেটে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে এবং তার পরিচিত এক সাক্ষীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান ভুক্তভোগী। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৪ জুলাই থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকে আদালতের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে নালিশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে গত ২৩ জুলাই আদালতে নালিশ দায়ের করেন তিনি।

নালিশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার চান।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত মো. আনারুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা এবং আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন