শিরোনাম
প্রকাশ: ১৪:২৫, ২১ নভেম্বর ২০২৫
শুক্রবারের ভুমিকম্প ছিল ৫.৭ মাত্রার । ছবি: আবহাওয়া অধিদপ্তর
আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের উৎস ছিল দেশের নরসিংদীর মাধবদী, আগারগাও থেকে ১৩ কিমি দূরে। সেখান থেকে ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় কম্পন ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পের পর সাধারণ মানুষের বড় উদ্বেগ—আরেকটি কি আসতে পারে?
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাঝারি শক্তিশালী হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের কম্পনের পরে পরবর্তী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা, অর্থাৎ প্রথম তিন দিন, পরাঘাত বা আফটারশকের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে। বড় ভূমিকম্পের পরে আশেপাশের ভূ-স্তরে চাপের পরিবর্তন হয়—এ কারণেই ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন আবার অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরাঘাত হলে তার মাত্রা সাধারণত কম থাকে। কখনো কখনো বড়-ও হতে পারে। তবে একেবারে সম্ভাবনা নেই—এমন বলা যায় না। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের সতর্ক থাকা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ঢাকার ভবনগুলো এখনো পর্যাপ্ত ভূমিকম্প-সহনশীল নয়। অনেক পুরোনো ভবনে যথাযথ রেট্রোফিটিং বা শক্তিশালীকরণের কাজ হয়নি। নতুন ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
ঢাকার নিচের মাটি নরম—এটি বড় ভূমিকম্পে দুলুনির মাত্রা আরও বাড়াতে পারে। ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনেও মানুষ বেশি ভয় পায় এবং ভবন ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
পরবর্তী কয়েক দিনে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষজ্ঞরা যেসব পরামর্শ দিয়েছেন—
কম্পন অনুভূত হলে দ্রুত খোলা জায়গায় বা নিরাপদ স্থানে চলে যান।
বড় ও পুরোনো ভবনে যারা থাকেন, তারা বিশেষভাবে সাবধান থাকবেন।
বাসায় বা অফিসে জরুরি জিনিস—পানি, লাইট, ওষুধ, প্রয়োজনীয় নথি—হাতে রাখুন।
গুজবে কান দেবেন না—সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুসরণ করুন।
সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, বিচ্ছিন্ন কিছু দুর্ঘ টনার খবরে কয়েকজন হতাহতের খবর জানা গেলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবুও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা বলছে—“সতর্ক থাকুন, তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই। পরবর্তী তথ্য নিয়মিত জানানো হবে।”
দিনের বাকি সময় রাজধানীতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। তবে সকাল থেকে শুরু হওয়া সেই কয়েক সেকেন্ডের কম্পন মানুষের মনে আবারও ভূমিকম্প-ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/ এসএ