ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

১৫ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

বিশ্বের আলোচিত স্বৈরশাসকদের শেষ পরিণতি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬:৪৫, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বের আলোচিত স্বৈরশাসকদের শেষ পরিণতি

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ইতিহাসে বহু স্বৈরশাসক ক্ষমতার শিখরে ওঠার পরও নানা অস্থিরতা ও ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছেন। যেসব নেতা কঠোরভাবে শাসন করেছেন, যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা রাজনৈতিক দমন চালিয়েছেন। তাদের জীবনের শেষ সময় প্রায়ই নাটকীয় ও দুঃখজনক হয়ে ওঠে। এখানে বিশ্বের কিছু প্রখ্যাত স্বৈরশাসকের শেষ জীবন তুলে ধরা হলো।

বেনিতো মুসোলিনি, ইতালি (১৮৮৩–১৯৪৫)

১৯২২–১৯৪৩ পর্যন্ত ইতালির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মুসোলিনি। ১৯৪৩ সালে জনগণের ক্ষীণ প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধে হারের আশঙ্কায় তাকে পদচ্যুত করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার হয়ে হোটেল কাম্পো ইমপেরাতরে রাখা হয়। পরে জার্মান সেনারা তাকে উদ্ধার করে উত্তরের লোমবার্দি অঞ্চলে নিয়ে যান। ১৯৪৫ সালের এপ্রিল মাসে মুসোলিনি এবং তাঁ প্রেমিকা ক্লারা পেতাচ্চি দেশত্যাগের চেষ্টা করলেও আটক হয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের মৃতদেহ প্রকাশ্যে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

অ্যাডলফ হিটলার, জার্মানি (১৮৮৯–১৯৪৫)

হিটলার ১৯৩৩–১৯৪৫ পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে বার্লিনের বাংকারে আত্মগোপন করেন। ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল হিটলার ও তার স্ত্রী ইভা ব্রাউন আত্মহত্যা করেন। পরে তার লাশ দাহ করা হলেও পুরোপুরি জ্বলানো হয় না।

ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো, স্পেন (১৮৯২–১৯৭৫)


১৯৩৯ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্পেন শাসন করেছিলেন। শাসনের শেষ দিকে স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় তিনি রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।ফ্রাঙ্কোর পারকিনসনস রোগ হয়েছিল। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চলাফেরায় সমস্যা হয়। ১৯৭৫ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি কোমায় চলে যান। ওই বছরের ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্রাঙ্কো লাইফ সাপোর্টে বেঁচে ছিলেন। এরপর ৮২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। ১৯৭৫ সালের ২০ নভেম্বর, ৮২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।

পাপা ডক, হাইতি (১৯০৭–১৯৭১)


১৯৫৭ সালে হাইতির প্রেসিডেন্ট হন পাপা ডক। বিরোধী দমন, হত্যাযজ্ঞ ও রাজনৈতিক নিপীড়ন চালান। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগে ১৯৭১ সালে মারা যান।

কিম ইল–সাং, উত্তর কোরিয়া (১৯১২–১৯৯৪)


উত্তর কোরিয়ার প্রথম নেতা। ১৯৪৮ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। কিম ইল–সাংয়ের শাসনামলে উত্তর কোরিয়া অকল্পনীয়ভাবে বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। আশির দশকের শেষ দিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে দেখা যায়, তাঁর গলায় টিউমার হয়েছে। তিনি অবশ্য এমন ভঙ্গিমায় দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, যেন টিউমারটি দেখা না যায়। শেষ পর্যন্ত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে কিম ইল–সাং মারা যান। ১৯৯৪ সালের ৮ জুলাই এ নেতা হঠাৎ পড়ে যান এবং এর কয়েক ঘণ্টা পর মারা যান। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর

অগুস্তো পিনোশে, চিলি (১৯১৫–২০০৬)

১৯৭৩ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চিলি শাসন গ্রহণ করেন। ক্ষমতা থেকে ১৯৯০ সালে শান্তিপূর্ণভাবে পদত্যাগ করেন। ২০০৬ সালের ১০ ডিসেম্বর হৃদরোগে মারা যান।

নিকোলাই চসেস্কু, রোমানিয়া (১৯১৮–১৯৮৯)

রোমানিয়ার স্বৈরশাসক ছিলেন। ১৯৮৯ সালে জনগণের বিদ্রোহের মুখে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনী তাদের আটক করে। ২১ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়।

ইদি আমিন, উগান্ডা (১৯২৫–২০০৩)


১৯৭১–১৯৭৯ সালের মধ্যে উগান্ডা শাসন করেন। ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নির্বাসনে চলে যান। ২০০৩ সালে সৌদি আরবে কিডনি সমস্যায় মারা যান।

সাদ্দাম হোসেন, ইরাক (১৯৩৭–২০০৬)


১৯৭৯–২০০৩ পর্যন্ত ইরাকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০৩ সালে মার্কিন অভিযানের পর ক্ষমতাচ্যুত হন। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ৩০ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে ফাঁসি দেওয়া হয়।

মুয়াম্মার গাদ্দাফি, লিবিয়া (১৯৪২–২০১১)


১৯৬৯–২০১১ পর্যন্ত লিবিয়া শাসন করেন। ২০১১ সালের বেনগাজি বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অক্টোবর ২০১১ সালে বিদ্রোহীরা তাকে গ্রেপ্তার করে হত্যা করে।

আলবার্তো ফুজিমোরি, পেরু (১৯৩৮–২০২৪)


১৯৯০–২০০০ পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দুর্নীতি ও রাজনৈতিক চাপের কারণে পদত্যাগ করে জাপান ও চিলিতে নির্বাসনে যান। ২৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে পরে ক্ষমা পান। ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএইচ

আরও পড়ুন