ঢাকা, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত

৭ দিনের সরকারি ছুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯:২৬, ১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫১, ১ মার্চ ২০২৬

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত

ছবি: সংগৃহীত

হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইরান। রবিবার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্র্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আজ সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

এর আগে খামেনির নিহত হওয়ার খবর জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলায় নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া শনিবার ইসরায়েল দাবি করে, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি'র প্রধানও তাদের হামলায় নিহত হয়েছে। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌথ হামলায় ইরানে অন্তত ৪০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। 

বিবিসি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে আজ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্মরণে সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। খবর এপির।

খামেনির মৃত্যুতে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। 

আইআরজিসি বলেছে, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এই আক্রমণ শুরু হবে। অধিকৃত অঞ্চল ও আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হবে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন ইরানে সরকার পরিবর্তন না হওয়ার পর্যন্ত অভিযান চলবে। 

১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ধর্মীয় পণ্ডিতের সন্তান খামেনি ১৯৬২ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন।

১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর আলী খামেনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গঠনে সহায়তা করেন।

১৯৮৯ সালের জুন মাসে খোমেনির মৃত্যু হলে ধর্মীয় নেতাদের বিশেষজ্ঞ পরিষদ খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। শিয়া ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় মর্যাদা অর্জন না করলেও তাকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুমতি দিতে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়।

এরপর থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের রাজনীতি ও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন এবং শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জগুলো কখনো কখনো সহিংসভাবে দমন করেছেন।

তিনি পররাষ্ট্র বিষয়েও ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান মুখোমুখি অবস্থান রয়েছে। তিনি বরারবরই ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছেন এবং হলোকাস্ট ঘটেছিল কি না তা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

ছয়জন সন্তানের জনক খামেনির শাসনামলে ইরানে সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/আরআর

আরও পড়ুন