ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

২২ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

চার বছরে পথশিশু-ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:৪৫, ৭ অক্টোবর ২০২৬

চার বছরে পথশিশু-ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশকে পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আজ বুধবার সকালে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে শিশুদের যত্ন ও বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, পথশিশুদের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আলাদা বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পথশিশুদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনার সুযোগ দিলেই শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ নিশ্চিত হবে না। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও শিক্ষা ও বিকাশের সমান সুযোগ দিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মাধ্যমে সুবিধাপ্রাপ্ত ও সুবিধাবঞ্চিত সব শিশুকে একই ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও শিশু একাডেমি যৌথভাবে কাজ করছে।

শিশুদের এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে কেউ নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তায় থাকা শিশু ও পরিবারের শিশুদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং বিকাশে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে যে জনগোষ্ঠীকে ‘পিছিয়ে পড়া’ বলা হয়, ভবিষ্যতে যেন এ শব্দটি আর ব্যবহার করতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

পাহাড় ও সমতলের মানুষসহ ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে সবার জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু আইন করলেই হবে না, এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা ও মানুষের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শিশু একাডেমি বা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। এটি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব।

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ থাকবে।

সেমিনারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন