শিরোনাম
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:২৮, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লির রাতটা যেন লেখা ছিল অভিষেক শর্মার নামেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩০ বলে শতক তুলে নিয়ে শুধু ম্যাচের হিসাবই বদলে দেননি, একই সঙ্গে একাধিক রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন ভারতের এই ব্যাটার। তাঁর ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে এমন পাঁচটি কীর্তি এসেছে, যেগুলোর কোনোটি এর আগে টি-টোয়েন্টিতে দেখা যায়নি।
পূর্ণ সদস্য দেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম
মাত্র ৩০ বলে শতক পূর্ণ করে পূর্ণ সদস্য দেশের ব্যাটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন অভিষেক। সব মিলিয়ে অবশ্য এটি এই সংস্করণে তৃতীয় দ্রুততম শতক। তাঁর আগে আছেন এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান ও তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ। তাঁরা যথাক্রমে ২৭ ও ২৯ বলে শতক করেছেন।
অভিষেকের আগে পূর্ণ সদস্য দেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম শতকের রেকর্ড ছিল জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ও নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেনের। দুজনেরই শতক এসেছিল ৩৩ বলে।
ওভার হিসাবেও নতুন রেকর্ড
শুধু বলের হিসাবে নয়, ওভারের হিসাবেও ইতিহাস গড়েছেন অভিষেক। ইনিংসের ৮.৩ ওভারেই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন তিনি। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে এত কম ওভারে শতক করার নজির আর নেই।
মজার বিষয় হলো, এই রেকর্ডটিও আগে ছিল অভিষেকেরই। গত বছর মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০.১ ওভারে শতক করেছিলেন তিনি। এবার নিজের সেই রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন।
শতকের ৯৪ শতাংশের বেশি রান বাউন্ডারি থেকে
অভিষেকের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলোর একটি ছিল বাউন্ডারির আধিপত্য। ১০৮ রানের ইনিংসে চার ও ছক্কা থেকেই এসেছে ১০২ রান। ৯টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এসেছে মোট রানের ৯৪.৪৪ শতাংশ।
টি-টোয়েন্টিতে কোনো শতরানে এত বেশি রান বাউন্ডারি থেকে আসার নজির নেই।
পাওয়ারপ্লেতেই ৭৬, এমন শুরু আর কারও নেই
প্রথম ছয় ওভার শেষে অভিষেক ছিলেন ২২ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত। পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাওয়ারপ্লে শেষে কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল পর্তুগালের কুলদীপ ঘোলিয়ার দখলে। মাল্টার বিপক্ষে পাওয়ারপ্লে শেষে ২৫ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ট্র্যাভিস হেডের ২২ বলে ৭৩ রান রয়েছে এরপর।
দ্রুততম পঞ্চাশের তালিকাতেও অনেক ওপরে
অভিষেকের অর্ধশতকও এসেছে মাত্র ১৭ বলে। ২০ বা তার কম বলে পঞ্চাশ করার ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারে এখন ছয়টি। এই তালিকায় আর কোনো ব্যাটার তাঁর কাছাকাছিও নেই।
যুবরাজ সিং, কলিন মুনরো, ফিন অ্যালেন, দাসুন শানাকা ও সোয়াজিল্যান্ডের আদিল বাট—প্রত্যেকে তিনবার করে এমন কীর্তি গড়েছেন।
আর প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই পঞ্চাশ করার ক্ষেত্রে অভিষেকের সংখ্যা এখন পাঁচ। পূর্ণ সদস্য দেশের আর কোনো ব্যাটার দুইবারের বেশি এই কীর্তি করতে পারেননি।
সিরিজ শুরুর আগে ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরেই ছিল বেশ আলোচনা। তবে দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকের এই বিধ্বংসী ইনিংসের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তিনিই। মাত্র ৩০ বলে শতকের ঝড় তুলে এক রাতেই টি-টোয়েন্টির রেকর্ডবুকে একাধিক নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন ভারতের এই তরুণ ব্যাটার।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস