ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

পিঠ-ঘাড় ব্যথায় এড়িয়ে চলুন ৬ অভ্যাস

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১:৪৪, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিঠ-ঘাড় ব্যথায় এড়িয়ে চলুন ৬ অভ্যাস

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক জীবনযাত্রায় দিনের বড় একটি সময় মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা টেলিভিশনের সামনে কাটানোর কারণে মেরুদণ্ড দীর্ঘসময় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকে। এর ফলে ব্যথার পাশাপাশি মেরুদণ্ডে আঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

মোবাইল ব্যবহারের সময় ঘাড় নিচু করে রাখা, ল্যাপটপে কাজ করার সময় কুঁজো হয়ে বসা কিংবা টেলিভিশন দেখার সময় সোফায় অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে শুয়ে থাকার মতো অভ্যাস পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অলস জীবনযাপন। আগের তুলনায় মানুষের জীবনযাত্রা অনেক কম সক্রিয় হয়েছে। শরীরের পেশি ও অস্থিসন্ধি শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত নড়াচড়া করা প্রয়োজন।

যে ৬ অভ্যাসে সতর্ক হতে হবে

১. যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা: গাড়ি, মোটরসাইকেল ও ভাড়ার গাড়ি সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ আগের তুলনায় অনেক কম হাঁটেন। অথচ মেরুদণ্ড ও এর সহায়ক পেশি সুস্থ রাখার অন্যতম সহজ উপায় হলো নিয়মিত হাঁটা।

২. দীর্ঘসময় বসে কাজ করা: অফিস কিংবা বাসায় দীর্ঘসময় ডেস্কে বসে কাজ করলে মেরুদণ্ড একই অবস্থানে আটকে থাকে। দীর্ঘসময় এভাবে বসে থাকার চাপ মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক নড়াচড়ার তুলনায় একেবারেই ভিন্ন, যা দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে।

৩. ব্যায়ামের অভাব: নিয়মিত ব্যায়াম না করলে মেরুদণ্ডকে সহায়তা করা পেশির শক্তি ও সহনশীলতা কমে যায়। এতে মেরুদণ্ডের ওপর সরাসরি বেশি চাপ পড়ে এবং আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে।

৪. অপর্যাপ্ত পুষ্টি: ভিটামিন ডি৩ বা বি১২-এর ঘাটতি, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকা এবং নিয়মিত ফাস্টফুড খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হাড় ও অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

৫. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব: ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দিনের পরিশ্রমের পর মেরুদণ্ড ও পেশির সুস্থ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমে যায়।

৬. মোবাইল ব্যবহারে ঘাড়ের ভুল ভঙ্গি: দীর্ঘসময় ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে মোবাইল ব্যবহার করলে সার্ভিক্যাল মেরুদণ্ডের ক্ষয় দ্রুত হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ রোগীদের মধ্যেও এ ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

যেসব লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠ বা ঘাড়ের ব্যথা ক্রমে বাড়তে থাকা, আগের ব্যথার তুলনায় ভিন্ন ধরনের ব্যথা অনুভূত হওয়া, আগে দ্রুত কমে যাওয়া ব্যথা এখন দীর্ঘসময় স্থায়ী হওয়া, পেশির খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে ঘন ঘন ব্যথানাশক খাওয়ার প্রয়োজন হওয়া এবং আগে যে কাজগুলোতে ব্যথা হতো না, সেগুলোতে ব্যথা শুরু হওয়া—এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়।

এছাড়া ব্যথার সঙ্গে জ্বর, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধামন্দা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এসব উপসর্গ কখনো সংক্রমণ বা বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

তাই শুধু ভুল ভঙ্গি বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে ব্যথা হচ্ছে মনে করে সেটি উপেক্ষা না করে ব্যথা স্থায়ী হলে বা এর ধরন পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন