ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

জিন্নাহর বাবা ছিলেন হিন্দু, বিক্রি করতেন মাছ: ফজলুর রহমান

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০:০৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিন্নাহর বাবা ছিলেন হিন্দু, বিক্রি করতেন মাছ: ফজলুর রহমান

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

পাকিস্তান আন্দোলনের রূপকার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক অতীত ও ধর্মীয় পটভূমি নিয়ে চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

তিনি দাবি করেছেন, জিন্নাহর পরিবার মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিল। তার বাবা গুজরাটে মাছ বিক্রি করতেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন ও অতীত তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালে বোম্বেতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন গুজরাটের একটি খোজা পরিবারের সন্তান, যারা মূলত মাছ বিক্রি করত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিন্নাহ প্রথমে কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং ১৯২৯ সালে তার ঐতিহাসিক ‘১৪ দফা’ দাবি উত্থাপন করেন। সেই ১৪ দফার সূত্র ধরেই হিন্দু-মুসলিম দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

বাংলাদেশিদের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানিয়েছিলাম, তা অস্বীকার করি না। কিন্তু বানিয়ে যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ১৯৫২ সালেই আমরা প্রতিরোধ শুরু করি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাঙালি কোনো ধর্মীয় জাতীয় সত্তায় নয়, বরং ভাষাভিত্তিক ও নৃতাত্ত্বিক জাতীয় সত্তার ওপর ভিত্তি করে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পথ সুগম হয়। এরপর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় বীর বাঙালি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মুক্তিযুদ্ধে নিজের ২৩ বছর বয়সে অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করে ফজলুর রহমান বলেন, “আমি শুধু যুদ্ধে যাইনি, যুদ্ধ সংগঠিত করেছি। মনে রাখতে হবে—কেবল অস্ত্র যুদ্ধ করে না, অস্ত্রের পেছনের মানুষটি এবং তাঁর ভেতরের আদর্শই আসল যুদ্ধটা করে।”

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সত্যের পথে চলার আহ্বান জানান এবং অন্ধকার দূর করতে অন্তত একটি করে আলো বা মোমবাতি জ্বালানোর পরামর্শ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন