শিরোনাম
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: ১৮:১৮, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রশস্ততা প্রায় ২৪ ফুট হলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কটি এখনো পাকা হয়নি। বর্ষা এলেই কাদা, পানি ও জলাবদ্ধতায় সড়কটি পরিণত হয় দুর্ভোগের কারণ।
বিহারীপুর, পূর্বজয়পুর, খোজারগাও, নিজগাও, গোলগাঁওসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ বছরের পর বছর এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক ‘কোড জটিলতার’ কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি নথিতে সড়কের রুট ও কোডসংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘদিন ধরে নিরসন না হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ প্রক্রিয়াও আটকে আছে বলে দাবি তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষায় সড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু থেকে কোমরসমান কাদা ও পানি জমে থাকে। কোথাও কোথাও পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে খাটিয়া বা কাঁধে করে কাদাপানি পেরিয়ে মূল সড়কে নিতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, “কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে খাটিয়ায় করে কয়েক কিলোমিটার কাদা পেরিয়ে মূল সড়কে নিতে হয়। এতে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষাকালে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহনও সড়কটিতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
সড়কের বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপরও। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকদেরও বাড়তি ঝুঁকি নিতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার বড় একটি অংশ কৃষিনির্ভর হলেও সড়কের কারণে কৃষকরা ধান, সবজি ও অন্যান্য পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে পারেন না। এতে পরিবহন খরচ বাড়ে এবং অনেক সময় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটি পাকা ও টেকসই হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সড়কটির মূল রুট ছিল সিএন্ডবি-বিহারীপুর-ইসলামপুর-গোলগাঁও। পরবর্তী সময়ে সরকারি নথিপত্রে রুট পরিবর্তিত হয়ে চক্রামপুর-চিচিরকোট-পূর্ব জয়পুর-ইসলামপুর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে সড়কটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব, কোড নির্ধারণ ও বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে একটি পুরো জনপদ কয়েক দশক ধরে উন্নয়নবঞ্চিত হয়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে সড়কের দুরবস্থা এতটাই প্রকট হয় যে অনেক পরিবার সাময়িকভাবে শহর বা উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া সন্তান ও অসুস্থ স্বজনদের কথা বিবেচনা করে অনেকে এমন সিদ্ধান্ত নেন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও একটি ২৪ ফুট প্রশস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেন পাকা হয়নি? প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে এত দীর্ঘ সময়েও তা নিরসন করা সম্ভব হয়নি কেন?
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটির সঠিক রুট ও সরকারি কোডসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরেই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং দীর্ঘদিন উন্নয়ন আটকে থাকার কারণ খতিয়ে দেখে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের ভাষ্য, “উন্নয়নের নানা পরিসংখ্যানের বাইরে আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া একটি চলাচলযোগ্য রাস্তা। সড়কটি পাকা হলে ১৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ব্যাপক উন্নতি হবে।”
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই