ঢাকা, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

ক্যানসার না হয়েও ১১ বছর কেমো নিলেন তরুণী

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩:৫৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৫৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্যানসার না হয়েও ১১ বছর কেমো নিলেন তরুণী

ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর কেমোথেরাপিসহ নানা জটিল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এক তরুণী। কিন্তু ১১ বছর পর জানা গেল, তিনি কোনো দিনই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন না। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছিলেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর ইউকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের একটি সাধারণ প্রদাহে আক্রান্ত ওই নারীকে ক্যানসারের ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। অথচ কিছু স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধেই তাঁর রোগ নিরাময় সম্ভব ছিল।

যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রির বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী বেকি জোন্স বর্তমানে দুই সন্তানের জননী। ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র মাইগ্রেনের সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তখন ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার ট্রাস্টের তৎকালীন নিউরো-অনকোলজি কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ইয়ান ব্রাউন জানান, তিনি চতুর্থ ধাপের ‘গ্লিওব্লাস্টোমা’ অর্থাৎ ব্রেইন ক্যানসারের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছেন। তাঁকে জানানো হয়, তিনি আর মাত্র কয়েক মাস বাঁচবেন।

এরপর টানা ১১ বছর বেকিকে ‘টেমোজোলোমাইড’ নামের কেমোথেরাপির ওষুধ দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসার আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ওষুধ ছয় মাসের মধ্যে ছয়টি চক্রে দেওয়ার কথা।

টানা কেমোথেরাপির ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বেকি প্রায়ই বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও ক্লান্তিতে ভুগতেন। সংক্রমণ এড়াতে আশপাশের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেন তিনি। এতে তাঁর ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাতিল হয়ে যায় তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্সও।

২০২৪ সালে চিকিৎসকের অবসরের কথা জানিয়ে হঠাৎ কেমোথেরাপি বন্ধ করে দেওয়া হলে আইনগত পদক্ষেপ নেন বেকি জোন্স। পরে নতুন করে নিউরোসার্জন ও রেডিওলজিস্টদের পরীক্ষায় ২০২৫ সালের মে মাসে জানা যায়, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন না। তাঁর মস্তিষ্কে ছিল ‘টিউমেফ্যাক্টিভ ডিমাইলিনেশন’ নামের প্রদাহজনিত রোগ।

তবে শুধু বেকি জোন্সই নন। ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার ট্রাস্টের অধ্যাপক ইয়ান ব্রাউনের অধীনে অন্তত ৪০ জন রোগী এমন অপ্রয়োজনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন।

অন্য এক নারী বিবিসিকে জানান, বছরের পর বছর ওই কেমোথেরাপি নেওয়ার কারণে তিনি স্থায়ীভাবে বন্ধ্যাত্ব বরণ করেছেন।

আরেক রোগীর অভিযোগ, তাকে টানা ১০০ সেশন অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হন।

রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো ধরনের উপকারিতা ছাড়াই রোগীদের ধারাবাহিকভাবে এই শক্তিশালী কেমোথেরাপি দেওয়া হতো। হাসপাতালটির অনকোলজি ফার্মেসি দলও ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই এসব ওষুধ সরবরাহ করেছে। প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে রোগীদের প্রতি চরম ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীনতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এনএইচএস ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিযোগ আসার পর জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সব রোগীর চিকিৎসা পর্যালোচনা করা হয়েছে। কেমোথেরাপির সার্বিক তত্ত্বাবধানেও নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন চলতি বছরেই প্রকাশ করা হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন