ঢাকা, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৭ রবিউস সানি ১৪৪৮

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:৩০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো এ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন।

তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।

তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন জিয়াউর রহমান। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচারসহ দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

জিয়াউর রহমানের ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।

পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে আরও কয়েকবার বক্তব্য দেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারকসভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন উল্লেখযোগ্য। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও তিনি বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবার বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। তার ভাষণে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে নিজেদের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।

বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২, ২৬ ও ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন