ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

হেটমায়ারের শতকের দিনে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ মিরাজদের

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:৫৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হেটমায়ারের শতকের দিনে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ মিরাজদের

ছবি: সংগৃহীত

এক পাশে শিমরন হেটমায়ারের বিধ্বংসী শতক, অন্য পাশে রভম্যান পাওয়েলের ঝড়। ২০৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ওভার পর্যন্ত ছিল টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত হাসান নওয়াজের ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালের টিকিট কেটেছে জ্যামাইকা কিংসম্যান।

বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে টস জিতে গায়ানাকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় জ্যামাইকা। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি গায়ানার। দলীয় ২০ রানেই বিদায় নেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ হারিস ও মাভেন্দ্র দয়াল। দুজনের ব্যাট থেকেই আসে ৯ রান করে।

এরপর হাল ধরেন হেটমায়ার ও শাই হোপ। শুরুতে রান তুলতে কিছুটা ধীরগতির হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলে খেলতে থাকেন দুজন। হেটমায়ারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত বদলে যায় গায়ানার ইনিংসের চিত্র।

মাত্র ২০ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন হেটমায়ার। অন্য প্রান্তে হোপও দারুণ সঙ্গ দেন। ৯৬ রানের জুটি ভাঙে হোপের বিদায়ে। ৩৩ বলে ৪০ রান করে হুনাইন শাহর বলে আউট হন তিনি।

তবে থামেননি হেটমায়ার। ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ব্যাট করে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। ৪৫ বলে ৪টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১০২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। কুয়েন্টিন স্যাম্পসন ১৭ বলে ২৯ এবং রোমারিও শেফার্ড ৭ বলে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন। মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজনই পড়েনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৬ রান সংগ্রহ করে গায়ানা।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় জ্যামাইকার শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। পাকিস্তানি তরুণ মাজ সাদাকাত শুরু থেকেই গায়ানার বোলারদের ওপর চড়াও হন। মিরাজের করা দ্বিতীয় ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চারে ১৮ রান তুলে নেন তিনি। তবে তৃতীয় ওভারে প্রিটোরিয়াসের বলে থামার আগে ১৭ বলে ৪১ রানের ঝড় তোলেন মাজ।

এরপর কির্ক ম্যাকেঞ্জি ও কেসি কার্টি জ্যামাইকাকে এগিয়ে নেন। ম্যাকেঞ্জি ২০ বলে ৩৪ রান করে ইমরান তাহিরের শিকার হন। মাঝের ওভারে মিরাজও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরান। তবে পরে সাইম আইয়ুব এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে জ্যামাইকার চাপ বাড়িয়ে দেন।

৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন কার্টি। জ্যামাইকার জয়ের আশা তখন আরও উজ্জ্বল। ৪০ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৬ রান করে অবশ্য রানআউট হয়ে ফেরেন তিনি।

শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য জ্যামাইকার প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। সেখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। ইমরান তাহিরের ওভারে দুই ছক্কাসহ ১৫ রান তুলে নেন পাওয়েল ও আন্দ্রে রাসেল। পরের ওভারে শামার জোসেফের বলে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে সমীকরণ আরও সহজ করে ফেলেন পাওয়েল।

শেষ ওভারে জ্যামাইকার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান। প্রথম বলেই আন্দ্রে রাসেলকে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন রোমারিও শেফার্ড। পরের বলে হাসান নওয়াজের ক্যাচও ফেলেন দিন্দাল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরের বলেই ২ রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন নওয়াজ।

পাওয়েলের ব্যাটে আসে মাত্র ১৭ বলে অপরাজিত ৪০ রান, যেখানে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা। নওয়াজ ২ বলে ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।

গায়ানার হয়ে প্রিটোরিয়াস ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। মিরাজ ৪ ওভারে ৪৩ রান দিলেও পাননি কোনো উইকেট। শেষ পর্যন্ত হেটমায়ারের শতককে ছাপিয়ে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় জ্যামাইকা কিংসম্যান।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন