শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:১৮, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দলীয় বিভক্তির জেরে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরোনো নাম ও প্রতীক আপাতত হাতছাড়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দিয়েছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরকে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের নির্বাচন কমিশন দুই শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করে।
এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার, কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলটির ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়। আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটির নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘জোড়াফুল’। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এই নাম ও প্রতীকেই বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে দলটি।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি প্রকাশ্যে আসে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে গড়ালে কমিশন উভয় পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এখন ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক নিয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেবে। অপর শিবির ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করবে। দুই দলকেই পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। মমতার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলকে সন্তুষ্ট করতেই কমিশন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবির নতুন নাম ও প্রতীক পাওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং দলকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না করে একটি সম্মিলিত রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচালনার কথা তুলে ধরেছে।
এদিকে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও পুরোনো দলীয় নাম ব্যবহারের সুযোগ হারানোর বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপের কথাও সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁর শিবির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নাম ও প্রতীক নিয়েই দুই শিবিরের প্রার্থীরা ওই নির্বাচনে অংশ নেবেন। কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাটি মূলত এসব উপনির্বাচনের জন্য কার্যকর থাকবে; মূল দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে হবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস