শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:৫৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট জেলার পুলিশ লাইনস এলাকায় একটি মসজিদের কাছে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট তাহির আলী শাহ জিও নিউজকে জানান, বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে ১৫টি মরদেহ ও ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়।
খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক জুলফিকার হামিদ জানান, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুরোনো পুলিশ লাইনসের ফটকে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরিত হয়।
জিও নিউজকে তিনি বলেন, ‘গাড়িটি ফটকে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরিত হয়। এরপর গুলিও চলে।’
আইজিপি হামিদ বলেন, বিস্ফোরণটি ছিল আত্মঘাতী হামলা। পরবর্তী গুলিবিনিময়ের সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনেও আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে।
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি দেয়ালও ধসে পড়েছে। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন।
বিস্ফোরণের পর পুলিশ লাইনস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পর কোহাটের ডিএইচকিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা জারি করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসার জন্য অন্তত ২৫ জন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
ঘটনার পর কোহাট-হাঙ্গু সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রীয় পুলিশ কার্যালয় জানায়, আইজিপি জুলফিকার হামিদ কোহাটের আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িটি পুরোনো পুলিশ লাইনসের ফটকে ধাক্কা দেয়।
কার্যালয়টি জানায়, বিস্ফোরণের প্রকৃতি আরও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণের কাজ চলছে। বিস্ফোরণের পর হামলাকারীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ও চলছিল।
আইজিপি হামিদ বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ ‘লোহার দেয়ালের মতো’ অবস্থান নিয়েছে। এ ধরনের হামলা পুলিশ সদস্যদের মনোবল দুর্বল করতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না।’ সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই