শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:৪২, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফাইল ছবি
জ্বর হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ক্ষুধা কমে যায়, অনেকের আবার খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এ সময় অনেকে না খেয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ দ্রুত শক্তি ফেরাতে ভারী খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু জ্বরের সময় শরীরকে সুস্থ হতে সাহায্য করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত তরল, সহজপাচ্য খাবার এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি।
জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়; এটি শরীরে কোনো সংক্রমণ বা অন্য সমস্যার একটি সাধারণ উপসর্গ। তাই জ্বরের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
পানি ও তরলই প্রথম
জ্বরের সময় শরীর থেকে ঘাম ও অন্যান্য উপায়ে পানি কমে যেতে পারে। তাই এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে বেশি পানি পান করতে অসুবিধা হলে অল্প অল্প করে বারবার পান করা যেতে পারে।
পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকলে ওরস্যালাইনও উপকারী হতে পারে। এ ছাড়া হালকা স্যুপ, ডাবের পানি বা অন্যান্য তরল খাবারও নেওয়া যায়।
খেতে পারেন নরম ও সহজপাচ্য খাবার
জ্বরের সময় হজমের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া ভালো। নরম ভাত, খিচুড়ি, ডাল, সেদ্ধ সবজি কিংবা হালকা স্যুপ এ সময় উপযোগী হতে পারে।
ক্ষুধা থাকলে ডিম, মাছ বা মুরগির মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও পরিমাণমতো খাওয়া যেতে পারে। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ধরে রাখতে এসব খাবার সহায়তা করে।
ফল রাখুন খাবারের তালিকায়
জ্বরের সময় ফলও খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে। কলা, কমলা, পেয়ারা ও আপেলের মতো ফল সহজেই খাওয়া যায়। ফল থেকে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন, খনিজ ও পানি পেতে পারে।
তবে শুধু ফল খেয়ে থাকা ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও খেতে হবে।
দই খাওয়া যাবে?
দই খেলে যদি কোনো অস্বস্তি না হয়, তাহলে পরিমাণমতো খেতে পারেন। তবে জ্বরের সঙ্গে বমি, ডায়রিয়া বা অন্য কোনো পেটের সমস্যা থাকলে কোন খাবার উপযোগী হবে, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন
জ্বরের সময় অতিরিক্ত ঝাল, তেল-মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। এসব খাবার অনেকের হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অতিরিক্ত চা-কফি, কোমল পানীয় ও খুব বেশি মিষ্টি পানীয়ের ওপর নির্ভর করাও ঠিক নয়। অ্যালকোহল অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।
বিশেষ করে ক্ষুধা না থাকলে একবারে অনেক খাবার খাওয়ার চেষ্টা না করে অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়া যেতে পারে।
জ্বরের সময় না খেয়ে থাকা কি ঠিক?
জ্বর হলে ক্ষুধা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই যতটুকু সহ্য হয়, ততটুকু করে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রামও প্রয়োজন। শরীরকে সুস্থ হতে সময় দিতে হবে।
জ্বর হলেই কি একই খাবার?
সব জ্বরের পরিস্থিতি এক নয়। সাধারণ ভাইরাল জ্বর, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া বা অন্য কোনো সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে জ্বরের কারণ নির্ণয় করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো রোগের সন্দেহ থাকলে জ্বরের সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গের দিকেও নজর দিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, খিঁচুনি, রক্তপাত বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
জ্বরের সময় তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—পর্যাপ্ত পানি, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম। ক্ষুধা কম থাকলেও শরীরকে যতটা সম্ভব তরল ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই