শিরোনাম
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:২৯, ১ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নাগোয়ার আকাশে ছিল মিষ্টি রোদ। করোগি অ্যাথলেটিক পার্কেও ছিল সূর্যের প্রখরতা। গ্যালারির বেশিরভাগ অংশজুড়েই ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। লিটন কুমার দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানদের সমর্থনে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে প্রকম্পিত করছিলেন দর্শকরা।
কিন্তু ক্রিকেটের বাইশ গজে বাংলাদেশ ছড়াতে পারেনি মুগ্ধতা। তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে চড়ে ১৩ ওভারে ১১১ রানের সংগ্রহটি যখন জয়ের জন্য যথেষ্ট মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই বল হাতে দলের প্রধান ভরসা মোস্তাফিজুর রহমান করলেন বাজে বোলিং। তার দুই ওভারে আবদুস সামাদ ও হাসান নওয়াজ ৪১ রান তুলে ম্যাচের গল্পটাই পাল্টে দেন।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। আগামীকাল ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের এই দলটি ততটা শক্তিশালী নয়। সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহান ছাড়া বড় তারকা বলতে খুব একটা কেউ নেই। বিপরীতে তারকাসমৃদ্ধ ও পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে এবারের এশিয়ান গেমসে খেলতে এসেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার ভেজা আউটফিল্ডের কারণে নির্ধারিত সময়ের সোয়া এক ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলা। ওভার কমে দাঁড়ায় ১৩-তে। উইকেট বিবেচনায় নিয়ে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। আরাফাত মিনহাসকে তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকানো তানজিদ হাসান তামিম পঞ্চম বলেই আউট হয়ে যান। সাহিবজাদা ফারহানের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
স্পিননির্ভর পিচে যেখানে দেখেশুনে খেলার কথা, সেখানে সাইম আইয়ুবকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বল মিস করেন লিটন কুমার দাস। পরিষ্কার বোল্ড হয়ে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলীয় ২০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ।
উইকেট থেকে স্পিনাররা যথেষ্ট টার্ন পাচ্ছিলেন। এমন উইকেটে দরকার ছিল হিসাবি ব্যাটিং। হাতে উইকেট রেখে সিঙ্গেল নেওয়ার পাশাপাশি আলগা বলে বাউন্ডারি মারার পরিকল্পনা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটি না করে শুরু থেকেই আগ্রাসী হতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
লিটন আউট হওয়ার পর ক্রিজে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। আরাফাত মিনহাসের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ ওয়াসিমের হাতে ধরা পড়েন তিনি। চার ওভারের পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
ভালো ব্যাট করছিলেন সাইফ হাসান। দুটি ছক্কাও হাঁকান তিনি। কিন্তু নতুন বোলার সুফিয়ান মুকিমের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ১৭ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাইফ।
বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখেন তাওহিদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়েন তিনি। সুফিয়ানের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন হৃদয়। ২৫ বলে ৪২ রান করা তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কায়।
অন্য প্রান্তে মোসাদ্দেক মন্থর ব্যাটিং করতে থাকেন। ১৬ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষের ব্যাটাররাও ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে পারেননি। ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
বোলিংবান্ধব এই উইকেটে রান করা কঠিন ছিল। হঠাৎ করে বল লাফিয়ে উঠছিল। এমন উইকেটে বাংলাদেশের স্পিনাররা দারুণ শুরু করেন। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার আগেই বিপজ্জনক ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহানকে আউট করেন শেখ মেহেদী। অন্য প্রান্তে ঝোড়ো সূচনা করা মাজ সাদাকাতকে ফেরান নাসুম আহমেদ। ৭ বলে ১৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
তবে বাংলাদেশের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ান সাইম আইয়ুব। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মোস্তাফিজের বলে দুটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি হাঁকান আইয়ুব। শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজের করা ওভারের শেষ বলেই তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ধরা পড়েন তিনি। আউট হওয়ার আগে ১২ বলে ২১ রান করেন আইয়ুব। ওই ওভারে ১৮ রান দেন মোস্তাফিজ।
৫৩ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তানের বিপক্ষে তখন জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে হাসান নওয়াজ ও আবদুস সামাদ ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলে দেন। দুজনেই মারমুখী ব্যাটিং করতে থাকেন। বিশেষ করে সামাদ ছিলেন বেশি ভয়ংকর।
বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনাররা এ দুই ব্যাটারের বিপক্ষে কার্যকর কিছুই করতে পারেননি। সবাই তাকিয়ে ছিল মোস্তাফিজের দিকে। কিন্তু ইনিংসের দশম ওভারে ২৩ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। তাঁর ওই ওভারেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়ের আশা।
একটি উইকেট পেলেও ২ ওভারে ৪১ রান দেন মোস্তাফিজ। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখে ৪ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আবদুস সামাদ ৩০ এবং হাসান নওয়াজ ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের পক্ষে শেখ মেহেদী, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট নেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস