ঢাকা, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

১৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮

যশোর রোডে ফিরে এলো একাত্তরের শরণার্থীদের কান্না

প্রকাশ: ১৫:৫৮, ৩ অক্টোবর ২০২৬

যশোর রোডে ফিরে এলো একাত্তরের শরণার্থীদের কান্না

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

একাত্তরের সেই দিনগুলো। ঘর ছেড়ে মানুষের দীর্ঘ পথচলা। মাথার ওপর অনিশ্চিত আকাশ, সামনে অজানা গন্তব্য। যুদ্ধের ভয় আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে সীমান্তের পথে ছুটছিল অগণিত মানুষ। সেইসব মানুষের কষ্ট, ক্ষুধা ও মানবিক বিপর্যয়ের স্মৃতি আবারও মঞ্চে ফিরে এলো ‘যশোর রোড’-এর গীতি আলেখ্যে।

মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ অবলম্বনে নির্মিত এই গীতি আলেখ্য পরিবেশন করেছে নরসিংদীর নাট্যদল ‘বাঁধনহারা’।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে ‘২৭ ধানমন্ডি গাই বাংলার গান পর্ষদ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই বিশেষ আয়োজন।

মুক্তিযুদ্ধের এক বেদনাময় অধ্যায়কে কেন্দ্র করে সাজানো হয় পুরো অনুষ্ঠান। দেশ ছেড়ে শরণার্থী হয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মানুষের জীবন ও দুর্ভোগ উঠে আসে কবিতা, স্মৃতিচারণ, সংগীত ও নাট্য পরিবেশনায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল সূচনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়। পরে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন ২৭ ধানমন্ডি গাই বাংলার গান পর্ষদের ফজলুল কবীর তুহিন।

শরণার্থী শিবিরে কাটানো সময়ের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যজিৎ মজুমদার।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মুক্তিযোদ্ধা ড. সারোয়ার আলী এবং ডাকসুর সাবেক জিএস মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামানও বক্তব্য দেন।

এরপর মঞ্চে আসে অ্যালেন গিন্সবার্গের ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। কবিতাটির ইংরেজি আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী বেলায়েত হোসেন। বাংলা অনুবাদ আবৃত্তি করেন রেজিনা ওয়ালী লীনা।

কবিতার সঙ্গে যুক্ত হয় দেশাত্মবোধক সংগীত। ‘ও আমার দেশের মাটি’ পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী আবিদা সুলতানা সেতু। ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ পরিবেশন করেন আমন্ত্রিত সংগীতশিল্পী।

বিরতির পর শুরু হয় সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ গীতি আলেখ্য ‘যশোর রোড’। অ্যালেন গিন্সবার্গের কবিতা অবলম্বনে নির্মিত পরিবেশনাটির নির্দেশনায় ছিলেন কামজ্জামান তাপু।

নরসিংদীর নাট্যদল ‘বাঁধনহারা’ ৩৫ মিনিটের এই গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে। মঞ্চের ভাষায় ফুটে ওঠে যুদ্ধের অভিঘাত ও শরণার্থী জীবনের কঠিন বাস্তবতা।

প্রায় ৯০ মিনিটের আয়োজনে আলোচনা, স্মৃতিচারণ, কবিতা, দেশাত্মবোধক গান ও গীতি আলেখ্য একসূত্রে মিলিত হয়।

‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ শুধু একটি কবিতা নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুর্দশার এক শক্তিশালী মানবিক দলিল হিসেবেও এটি পরিচিত।

সেই কবিতাকে গীতি আলেখ্যের ভাষায় মঞ্চে তুলে ধরে ‘বাঁধনহারা’। এর মধ্য দিয়ে একাত্তরের ইতিহাসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বেদনা, অনিশ্চয়তা ও বেঁচে থাকার সংগ্রামও নতুন করে দর্শকের সামনে আসে।

আয়োজকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শুধু আনুষ্ঠানিক স্মরণে সীমাবদ্ধ না রেখে কবিতা, সংগীত ও নাট্যভাষায় নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন