শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:৫৫, ৭ অক্টোবর ২০২৬
ফাইল ছবি
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল মামলাটি শুনবেন।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। আজ সকালে তাদের কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আব্দুর রাজ্জাক, দীপু মনি, হাসানুল হক ইনু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল হক বাবু ও সাংবাদিক ফারজানা রূপা।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মামলার বাকি ৩০ আসামি পলাতক। তাদের আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও তারা হাজির হননি। পরে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন গ্রহণ করে অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।
গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। মামলায় হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চার এলাকায় ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
এর আগে প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, ওই ঘটনাপ্রবাহে মোট ৬১ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়।
মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিদের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক সত্যতা নির্ধারণ হবে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায়।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই