শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:২৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতি। তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ও চলমান সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) তাসনিম নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদুলু এজেন্সি।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবাই জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মহসেন পাকনেজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকির জন্য ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদ বোভার্ডকে ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে পাকনেজাদের পদত্যাগের কোনো কারণ জানানো হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণী দায়িত্বে বসেন মহসেন পাকনেজাদ।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই বছরের মাথায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট ও সম্ভাব্য তেল রপ্তানির ঝুঁকির মধ্যে তাকে পদ সরে দাঁড়াতে হলো। বিস্ময়কর বিষয় হলো, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত একটি বিশেষ বক্তব্যে তেল বিক্রি নিয়ে বেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।
ওই বক্তব্যে পাকনেজাদ দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাধা ও অবরোধের মধ্যেও তেল বিক্রির অর্থ যথাসময়ে ইরানের অর্থনীতিতে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। ফলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি কেন বদলে গেল, তিনি ঠিক কী কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন কিংবা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তেহরান থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অবরোধ, ক্রমাগত সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের জের ধরে এমন আকস্মিক রদবদল ঘটতে পারে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস