ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

৬৬৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, ব্যস্ত হবিগঞ্জের কারিগর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০:১৯, ১২ অক্টোবর ২০২৬

৬৬৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, ব্যস্ত হবিগঞ্জের কারিগর

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে হবিগঞ্জে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার ৯টি উপজেলায় এবার ৬৬৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার পাশাপাশি উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হচ্ছে নানা নিরাপত্তাব্যবস্থা। ঢাকের বাদ্য আর দেবীর আগমনের অপেক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও কারিগরেরা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হবিগঞ্জ জেলা শাখা সূত্রে জানা যায়, এবার হবিগঞ্জ পৌরসভায় ৩৫টি, সদর উপজেলায় ৪৩টি, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলায় ২০টি, বাহুবল উপজেলায় ৫৫টি, লাখাই উপজেলায় ৬৬টি, মাধবপুর পৌরসভা ও উপজেলায় ১১৫টি, চুনারুঘাট পৌরসভা ও উপজেলায় ৮২টি, নবীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলায় ৯০টি, বানিয়াচং উপজেলায় ১২২টি এবং আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলায় ৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। কোথাও প্রতিমায় চলছে রঙের শেষ আঁচড়, আবার কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। কারিগরদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করছেন তারা। পাশাপাশি মণ্ডপে চলছে আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণের কাজ। বড় শহরের মণ্ডপের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার মণ্ডপগুলোতেও চলছে সাজসজ্জার শেষ প্রস্তুতি।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে কেনাকাটায় ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে শহরের বিপণিবিতান ও মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। বিক্রেতারাও আশা করছেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও বাড়বে।

পূজা উদযাপন পরিষদের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নলিনী কান্ত রায় জানান, এ বছর জেলার ৬৬৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে সামনে রেখে প্রতিটি মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাতে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আয়োজকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গুজব বা উসকানিতে কান না দিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

পূজাকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা সম্পর্কে পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পূজামণ্ডপ, মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোরদের বেপরোয়া চলাচল ঠেকাতেও বিশেষ নজরদারি থাকবে। কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমায় শেষ আঁচড়, মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা আর আলোকসজ্জার ঝলকানি জানান দিচ্ছে, দেবী দুর্গার আগমনের আর বেশি দেরি নেই। ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গার আরাধনা। এরপর বোধন, অঞ্জলি, সন্ধিপূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার শেষে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন