ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

টাইফয়েডের ঝুঁকি কমাতে মানুন ৫ সতর্কতা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০:৩৫, ১২ অক্টোবর ২০২৬

টাইফয়েডের ঝুঁকি কমাতে মানুন ৫ সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। শিশুদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই রোগের ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বিশুদ্ধ পানি পান করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার, বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং দূষিত পানি পান টাইফয়েড সংক্রমণের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ার উদ্বেগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্কুলপড়ুয়া শিশুরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। এ রোগে বহু মানুষের মৃত্যুও হয়। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রোগটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

টাইফয়েডের লক্ষণ

টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণত এক থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে এ সময়ের পার্থক্য হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ধীরে ধীরে জ্বর বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, শুষ্ক কাশি, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, পেটব্যথা, ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য। কারও কারও পেট ফোলাভাব ও ত্বকে ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে।

রোগের অবস্থা গুরুতর হলে অন্ত্রে রক্তক্ষরণ কিংবা ছিদ্র হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা টাইফয়েডের সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

টাইফয়েডের ঝুঁকি কমাতে ৫টি সতর্কতা

টিকা গ্রহণের পাশাপাশি কয়েকটি সতর্কতা মেনে চললে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

১. নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া

শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং খাবার তৈরি বা খাওয়ার আগে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

২. নিরাপদ পানি পান করা

সম্ভব হলে সিল করা বোতলের নিরাপদ পানি পান করতে হবে। অন্যথায় পানি অন্তত এক মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করা উচিত।

৩. কাঁচা ফল ও সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা

বিশেষ করে নিরাপদভাবে ধোয়া বা প্রস্তুত করা হয়নি, এমন কাঁচা ফল ও সবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা

রাস্তার পাশে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

৫. গরম ও সদ্য রান্না করা খাবার খাওয়া

ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ রাখা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। খাবার ভালোভাবে রান্না করে গরম অবস্থায় খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন