শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১:০৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
১২ বছর বয়স অতিক্রম করার আগেই অনেক শিশু নিজস্ব স্মার্টফোন পেয়ে যায়। তবে গবেষণা বলছে, কম বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের অস্বাভাবিক বা বিকৃত খাদ্যাভ্যাসের সম্ভাব্য একটি সম্পর্ক থাকতে পারে।
চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল ‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার তরুণ-তরুণীর ওপর পরিচালিত জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষকরা বলেছেন, স্মার্টফোন শিশুদের এমন বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, যেখানে চেহারা ও শরীরের গঠনকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে এমন ছবি ও বার্তাও থাকতে পারে, যা খাবার এবং শরীরের গঠন সম্পর্কে অস্বাস্থ্যকর মনোভাব তৈরি করতে পারে।
গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর শিশুরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জেসন নাগাটা বলেন, একটি শিশুকে স্মার্টফোন দেওয়া মানে শুধু তার হাতে একটি ডিভাইস তুলে দেওয়া নয়। এর মাধ্যমে শিশুর বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও পরিবর্তিত হতে পারে।
স্মার্টফোন পাওয়ার সঠিক বয়স
নাগাটা বলেন, আগের গবেষণাগুলোতে মূলত শিশুরা স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে কত সময় কাটায়, সেদিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু কোনো শিশুর স্মার্টফোন আছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; তারা কত বয়সে স্মার্টফোন পায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকরা আরও বলেছেন, আগের গবেষণাগুলোতে শিশু-কিশোরদের বেশি সময় স্ক্রিন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটানোর সঙ্গে বিষণ্নতা, আত্মসম্মান কমে যাওয়া এবং মাদক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের মতো বিভিন্ন নেতিবাচক ফলাফলের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নাগাটার দলের আগের গবেষণাতেও স্ক্রিনে কাটানো সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতার একটি সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, তাদের গবেষণায় ১২ বছর বয়সে স্মার্টফোন থাকা এবং পরবর্তীতে বিকৃত খাদ্যাভ্যাসের লক্ষণের মধ্যে একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্মার্টফোন ব্যবহার সরাসরি খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ বা এ ধরনের লক্ষণ সৃষ্টি করে।
অর্থাৎ, গবেষণাটি শিশুদের স্মার্টফোন পাওয়ার বয়স এবং পরবর্তী সময়ে খাদ্যাভ্যাস-সম্পর্কিত আচরণের মধ্যে সম্ভাব্য একটি যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই সম্পর্কের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ কাজ করছে, তা বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস