শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:৫৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জার্মানির বিজ্ঞানীরা বলছেন, দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলে আয়ু বাড়বে ৭ বছর। যদিও এ দাবিটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। বরং এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অতিরঞ্জিত তথ্য। মূল গবেষণা ও এর পেছনের প্রকৃত তথ্য জানতে হবে।
আশির দশকে জার্মানির মনোবিজ্ঞানী ড. আর্থার সাবোর নেতৃত্বে একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা করা হয়। সেখানে দেখা গিয়েছিল, যেসব স্বামী প্রতিদিন সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে বিদায়ী চুমু দেন, তারা অন্যদের তুলনায় গড়ে পাঁচ বছর বেশি বাঁচেন।
চুম্বন যে ভালোবাসা বাড়িয়ে অবসাদ দূর করে, এ কথা ‘কামসূত্রে’ই বলা আছে। চুম্বন সম্ভোগকে আনন্দময় করে তোলে ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। কামসূত্রের আমল পেরিয়ে আমরা বহুদূর চলে এসেছি। আজও বিজ্ঞানীরা বলছেন একই কথা। দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলে নাকি আয়ু বাড়ে সাত বছর। পুরনো জার্মান গবেষণা তেমনই বলছে।
মনোবিদ আর্থার জাবোরের নাম এ ক্ষেত্রে করাই যায়। তবে তিনি যা বলেছিলেন, তা কালে কালে পালটে গেছে। গত শতকের আশির দশকে জার্মানির এই মনোবিদ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, যেসব পুরুষ কাজে যাওয়ার আগে সকালে স্ত্রীকে চুমু খান, তারা চুমু না খাওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে পাঁচ বছর বেশি বাঁচেন।
কালক্রমে সামাজিক মাধ্যমে সেই পাঁচ বছর বেড়ে সাত বছরে পরিণত হয়েছে। সকালের চটজলদি বিদায়ী চুমু রূপান্তরিত হয়েছে ২২ মিনিটের চুম্বনে। অর্থাৎ বিষয়টি যে অতিরঞ্জিত, তাতে সন্দেহ নেই। তবে চুম্বনের সঙ্গে আয়ুর বিষয়টিকে অস্বীকার করা যাবে না। জাবো সেদিকেই আলো ফেলেছেন। নিয়মিত চুম্বনে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সামগ্রিকভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘনিষ্ঠতা প্রায়শই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং দীর্ঘ ও সুখী জীবনযাপনে সহায়তা করে। বিষয়টি স্টপওয়াচ ধরে সময় মাপার মতো নয়। এ ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো পারস্পরিক বন্ধন। সেই বন্ধনের প্রেমস্পর্শই শরীরে আয়ু যোগ করে। সুতরাং পাঁচ বা সাত বছর কিংবা ২২ মিনিটের কথা না ভেবে দিনে নির্দিষ্ট সময়ে ভালোবাসার মানুষের কাছাকাছি থাকুন।
এ প্রসঙ্গে বলা যায়, চুম্বনের বিভিন্ন উপকারিতার কথা বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন। যেমন, চুমু খেলে রক্তচাপ কমে, ব্যথা কমে। এমনকি চুম্বনে লালারসের বিনিময়ের ফলে মুখের স্বাস্থ্য ও দাঁত ভালো থাকবে। ফলে খাবারের টুকরো দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে না। লালা বিনিময়ের ফলে নতুন সব অণুজীবের সংস্পর্শে আসে মানুষ, যাকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক ‘ক্রস-ট্রেনিং’ হিসেবে ধরা হয়।
আবার লালারসের বিনিময় ছোঁয়াচে অসুখও ডেকে আনতে পারে। তবে সঙ্গী বা সঙ্গিনী বহুদিনের হলে এ বিপদ অনেকটাই কেটে যায়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে চুম্বন করলে তার ফল যে ভালো হতে পারে, সেই সম্ভাবনাই বেশি।
এ ছাড়া ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারলেই যে জীবনীশক্তি মেলে, সে কথা নতুন নয়। বিখ্যাত ব্যান্ড ‘ঈগল’-এর সেই লাইনটি মনে করুন—‘হোয়েন উই আর হাংরি/ লাভ উইল কিপ আস অ্যালাইভ।’
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস