ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

উত্তম আখলাক কেন একজন মুমিনের জন্য জরুরি

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭:২৯, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তম আখলাক কেন একজন মুমিনের জন্য জরুরি

ফাইল ছবি

মানবজীবনের উত্তম গুণাবলিকে প্রশংসনীয় চরিত্র বা আখলাক বলা হয়। ধৈর্য, সততা, দেশপ্রেম ও সমাজসেবা এর অন্যতম উদাহরণ। বিপরীতে অহঙ্কার, ঘৃণা, মিথ্যাচার ও সুদসহ নিকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামে আখলাকের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রত্যেক নবী নিজ নিজ জাতিকে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। আর উন্নত চরিত্রকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহতায়ালা পাঠিয়েছেন।

একজন মুমিনের জন্য আমল করা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি চরিত্রবান হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম শুধু ইবাদত-বন্দেগির প্রতি উৎসাহ দেয়নি; মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, ধৈর্য, বিনয় ও উত্তম চরিত্রের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

ইসলামি শরিয়তের বিধান মূলত আদিষ্ট ও নিষিদ্ধ—এই দুই ধরনের। ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতের মতো আবশ্যকীয় আমল পালনের পাশাপাশি নফল ইবাদতেরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। নফল নামাজ, রোজা, তাসবিহসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত আমলের প্রতি কোরআন-হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসে নফল নামাজ ও রোজার প্রতি উৎসাহ দিয়ে হজরত দাউদ (আ.)-এর ইবাদতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি রাতের প্রথমার্ধে ঘুমাতেন, এক-তৃতীয়াংশ ইবাদত করতেন এবং অবশিষ্ট এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। একইভাবে একদিন রোজা রাখতেন এবং পরদিন রোজা রাখতেন না। —সুনানে তিরমিজি: ১১১৯

এ ছাড়া বোখারি শরিফের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, দুটি বাক্য আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। জিহ্বায় উচ্চারণে সহজ হলেও আমলনামায় তা অনেক ভারী। বাক্য দুটি হলো—‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ —বোখারি শরিফ: ৭০৫৩

তবে এসব অতিরিক্ত আমল না করার কারণে জাহান্নামে যাওয়ার কোনো সতর্কবার্তা নেই। অন্যদিকে উত্তম চরিত্র অর্জনের বিষয়ে হাদিসে যেমন উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তেমনি মন্দ চরিত্রের ব্যাপারেও কঠোর সতর্ক করা হয়েছে।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন বিষয় মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহভীতি ও উত্তম আখলাক।’ আর জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কোন বিষয় মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করাবে? তিনি বলেন, ‘মুখ ও লজ্জাস্থান।’ —সুনানে তিরমিজি: ২০০৪

এই হাদিস থেকে উত্তম ও মন্দ চরিত্রের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। উত্তম আখলাক মানুষকে জান্নাতের পথে এগিয়ে দেয়। অন্যদিকে মানুষের মুখ ও লজ্জাস্থান থেকে সংঘটিত বিভিন্ন গুনাহও নিকৃষ্ট চরিত্রের প্রকাশ ঘটায়।

অহঙ্কার থেকেও মুমিনকে সতর্ক করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, ‘যার অন্তরে সর্ষেদানা পরিমাণ অহঙ্কার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ —সুনানে তিরমিজি: ১৯৯৮

শুধু অহঙ্কার নয়, হিংসা, বিদ্বেষ, বাচালতা ও চোগলখুরির মতো নিন্দনীয় স্বভাব থেকেও বেঁচে থাকার নির্দেশ রয়েছে। এসব চরিত্র মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে এবং ধর্মীয় জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাস্তব জীবনেও উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব সহজেই বোঝা যায়। কেউ হয়তো অতিরিক্ত নফল আমলে অভ্যস্ত নন, কিন্তু তার সুন্দর আচরণ, বিনয় ও মানুষের প্রতি সদ্ব্যবহারের কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন। আবার কেউ অনেক ইবাদত করেও মন্দ স্বভাবের কারণে অন্যের কষ্টের কারণ হতে পারেন।

তাই শুধু আমলের পরিমাণ নয়, চরিত্রের সৌন্দর্যও একজন মুমিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তম আখলাক মানুষের আমলকে সুন্দর করে এবং তাকে আরও ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করে।

আখলাকহীন আমল যেন বন্ধ গুহায় রাখা হিরে-জহরত—মূল্যবান হলেও যার সুফল সহজে প্রকাশ পায় না। আর উত্তম আখলাক উর্বর মাটিতে রোপণ করা একটি অঙ্কুরের মতো। যত্ন নিলে তা একদিন মহিরূহে পরিণত হতে পারে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন