ঢাকা, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

‘ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮:৩৭, ৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৩, ৭ নভেম্বর ২০২৬

‘ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না’

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

দেশের ভেতরে ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতোই সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’

তিনি বলেন, একাত্তর, নব্বই এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে। আজকের র‌্যালি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যাশা পূরণের দিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন। ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন। এটি বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।’

সমাবেশে উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা করতালি দিয়ে তাঁকে সমর্থন জানান।

তারেক রহমান বলেন, অতীতের মতো এখনো একটি পক্ষ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে এবং ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে ষড়যন্ত্র করছে। তবে কাউকে এ সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেই দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন।

এর আগে দুপুর ১২টা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিকেল ৩টার দিকে অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তাঁদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

সমাবেশ শেষে পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যালিটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছালে সেখানে সমাপনী বক্তব্য দেন তিনি। মন্ত্রিসভার সদস্যসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা র‌্যালিতে অংশ নেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন