ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিল্পকারখানায় নাশকতার চেষ্টা হলে জনগণ জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:৫১, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শিল্পকারখানায় নাশকতার চেষ্টা হলে জনগণ জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি : পিএমও

দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগকে ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শ্রমিকসহ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। শিল্পকারখানা দেশের মানুষের সম্পদ এবং শ্রমিকদের জীবিকার অন্যতম উৎস।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৫-১৬ বছরে যারা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এমনকি দেশের শিল্পকারখানা ধ্বংসের ষড়যন্ত্রেও তারা জড়িত।

শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া বিবেচনায় সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড কাজ শুরু করেছে এবং আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু এবং নতুন শিল্প স্থাপনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে কাজ করছে।

একসময় খুলনা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এ জন্য বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

কাটাখালীতে পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন