ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩, ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই জামিন পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩:১৬, ৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১৮, ৫ নভেম্বর ২০২৬

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই জামিন পেলেন পরীমনি

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

সাভারের বোট ক্লাবে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির একদিন পর জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার একই আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। ওই দিন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এলার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি পরীমনি।

এদিকে, বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন করেন পরীমনি। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।

২০২২ সালের ৭ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে মামলাটি করেন বোট ক্লাবের পরিচালক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তার দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়। পরে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে অ্যালকোহল পান শেষে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য নাসির উদ্দিনকে চাপ দেন পরীমনি। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে গালমন্দ করেন এবং একপর্যায়ে সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথা ও বুকে আঘাত পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন বলেও দাবি করেন বাদী।

পরবর্তী সময়ে পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি শেষে আদালত পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। পরে ওই বছরের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাইফুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি।

ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন