শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:৫০, ৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
মানিকগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ট্রিপল মার্ডার মামলায় চার ভাইসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ ও জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে মজনু মিয়াকে এক বছর, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আমিনুর রহমান ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই