ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

৪৫ দিনেই ধস দেড় কোটি টাকার বাঁধে, ঝুঁকিতে ১৫ গ্রাম

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯:৩৫, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৩৬, ৪ নভেম্বর ২০২৬

৪৫ দিনেই ধস দেড় কোটি টাকার বাঁধে, ঝুঁকিতে ১৫ গ্রাম

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

মাত্র ৪৫ দিনেই ধসে পড়েছে বরগুনার তালতলীতে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি বেড়িবাঁধ। পায়রা নদীর ভাঙন রোধে নির্মিত বাঁধটির জিও ব্যাগের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে মূল বাঁধেও।

উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় গত ২১ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ হয়। ৩ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩০০ মিটার জিও ব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল।

এতে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ পাঁচটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হয়। কাজগুলো পায় মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্স। এতে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই তাঁরা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু বা পাথর ব্যবহার না করে নামমাত্র বালু ও মাটি দিয়ে ডাম্পিং করা হয়েছে।

তাঁদের আরও অভিযোগ, ভেকু দিয়ে বাঁধসংলগ্ন নদীর তীর থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করায় অল্প সময়েই বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকলে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রামের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের প্লাবিত হতে পারে।

এ বিষয়ে মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্সের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন ধসের জন্য নদীর মোহনাকে দায়ী করেছেন।

অন্যদিকে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল বাঁধের একটি অংশে ধসের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় জিও ব্যাগ দিয়ে তা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। টেকসই সমাধানের জন্য ডিপিপি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের কাজের গুণগত মান ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের দাবি তাঁদের।

দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন