শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:৪৭, ৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জরুরি মুহূর্তে ছবি তুলতে গিয়ে হঠাৎ স্ক্রিনে ভেসে উঠল ‘স্টোরেজ স্পেস শেষ’। নতুন অ্যাপ ইনস্টল করতে গেলেও একই বার্তা। জায়গা খালি করতে গিয়ে মুছতে হচ্ছে পুরোনো ছবি, ভিডিও কিংবা প্রয়োজনীয় ফাইল। অথচ কোন ফাইল ফোনের কতটা জায়গা দখল করে রেখেছে, তা বুঝে ওঠাও কঠিন।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে এ সমস্যা এখন বেশ পরিচিত। প্রতিদিন ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, অনলাইন ভিডিও দেখা এবং বিভিন্ন অ্যাপ ডাউনলোডের কারণে ফোনে জমতে থাকে অসংখ্য ফাইল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অ্যাপের ক্যাশ, ডাউনলোড করা কনটেন্ট ও অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট। ফলে ১২৮ জিবি স্টোরেজের ফোনও অনেক সময় দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়।
কিন্তু কেন এত দ্রুত শেষ হচ্ছে ফোনের মেমোরি? আর অপ্রয়োজনীয় ফাইল না সরিয়ে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অক্ষত রেখে জায়গা খালি করা যায়? জেনে নিন স্টোরেজ পূর্ণ হওয়ার কয়েকটি কারণ এবং তা সমাধানের সাতটি উপায়।
যেসব কারণে দ্রুত পূর্ণ হয় ফোনের মেমোরি
ছবি ও ভিডিও: ফোনের স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হওয়ার অন্যতম কারণ উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ও ভিডিও। বর্তমানে স্মার্টফোনে ৫০, ১০৮ এমনকি ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাও রয়েছে। এসব ক্যামেরায় তোলা ছবির ফাইলের আকার তুলনামূলক বড় হয়। অন্যদিকে, ফুল এইচডি বা ফোরকে রেজল্যুশনে ধারণ করা ভিডিও কয়েক মিনিটেই কয়েকশ মেগাবাইট থেকে কয়েক গিগাবাইট জায়গা নিতে পারে। একই ছবির একাধিক কপি, স্ক্রিনশট ও সম্পাদিত ছবির মূল ফাইলও স্টোরেজ দখল করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্যাশ: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো অ্যাপে ছবি-ভিডিও দেখার সময় কিছু তথ্য সাময়িকভাবে ফোনে জমা হয়। এগুলো ক্যাশ ফাইল নামে পরিচিত। একই কনটেন্ট পরে দ্রুত লোড করতে এসব ফাইল কাজে লাগে। তবে দীর্ঘদিন অ্যাপ ব্যবহার করলে ক্যাশের পরিমাণ বেড়ে যায়। অ্যাপের নিজস্ব তথ্য, সার্চের ইতিহাস ও বিভিন্ন সেটিংসও স্টোরেজ ব্যবহার করে।
মেসেজিং অ্যাপের মিডিয়া ফাইল: হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে প্রতিদিন ছবি, ভিডিও, ভয়েস মেসেজ, পিডিএফ ও নথি আদান-প্রদান হয়। বিশেষ করে গ্রুপে আসা ছবি-ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হলে অজান্তেই ফোনে অনেক ফাইল জমে যায়। একই ফাইল একাধিকবার পাঠানো হলে একাধিক কপিও তৈরি হতে পারে।
বড় আকারের অ্যাপ ও গেম: অনলাইন গেম, ভিডিও সম্পাদনার অ্যাপ, ক্যামেরা অ্যাপ ও পেশাদার কাজের সফটওয়্যার অনেক জায়গা নেয়। কিছু গেম ইনস্টল করার পর অতিরিক্ত মানচিত্র, গ্রাফিকস ও শব্দের ফাইল ডাউনলোড করে। ভিডিও সম্পাদনার অ্যাপেও প্রকল্প, অস্থায়ী ফাইল ও সম্পাদিত ভিডিও জমতে থাকে।
অপারেটিং সিস্টেম ও আপডেট: ফোনের বাক্সে ১২৮ বা ২৫৬ জিবি স্টোরেজ লেখা থাকলেও পুরো জায়গা ব্যবহারকারীর জন্য বরাদ্দ থাকে না। অপারেটিং সিস্টেম, আগে থেকে ইনস্টল করা অ্যাপ ও প্রয়োজনীয় সিস্টেম ফাইল স্টোরেজের একটি অংশ ব্যবহার করে। নতুন সফটওয়্যার আপডেটের সময়ও অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন হতে পারে।
ডাউনলোড ফোল্ডারের ফাইল: ইন্টারনেট থেকে নামানো ছবি, ভিডিও, পিডিএফ, নথি ও অ্যাপের এপিকে ফাইল অনেক সময় ব্যবহার শেষে ফোনেই পড়ে থাকে। একই ফাইল একাধিকবার ডাউনলোড হলেও তা খেয়াল করা হয় না। ফলে ডাউনলোড ফোল্ডারেও ধীরে ধীরে জায়গা জমে যায়।
ফোনের স্টোরেজ খালি করবেন যেভাবে
স্টোরেজ খালি করার আগে কোন ধরনের ফাইল বেশি জায়গা নিচ্ছে, তা দেখে নেওয়া জরুরি। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সেটিংসের ‘স্টোরেজ’ অপশনে গেলে ছবি, ভিডিও, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইলের জায়গা ব্যবহারের হিসাব পাওয়া যায়। আইফোনে সেটিংসের ‘আইফোন স্টোরেজ’ অপশন থেকে কোন অ্যাপ কত জায়গা নিচ্ছে, তা দেখা যায়।
১. অপ্রয়োজনীয় ছবি ও ভিডিও মুছুন
ফোনের গ্যালারি থেকে অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, স্ক্রিনশট এবং একই ছবির একাধিক কপি খুঁজে মুছে ফেলুন। যেসব ভিডিও আর প্রয়োজন নেই, সেগুলোও সরিয়ে দিন। তবে মনে রাখবেন, অনেক ফোনে মুছে ফেলা ছবি ও ভিডিও ‘ট্র্যাশ’ বা ‘রিসেন্টলি ডিলিটেড’ ফোল্ডারে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থেকে যায়। জায়গা খালি করতে সেখান থেকেও ফাইল স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে হবে।
২. অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার করুন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সেটিংসের ‘অ্যাপস’ অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপ নির্বাচন করে ‘স্টোরেজ’ থেকে ক্যাশ ফাইল মুছে ফেলা যায়। এতে অ্যাপের অস্থায়ী ফাইল সরবে এবং কিছু জায়গা খালি হবে।
তবে ‘ক্লিয়ার ডেটা’ বা ‘অ্যাপ ডেটা মুছুন’ অপশন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। এতে অ্যাপের লগইন তথ্য, সেটিংস ও সংরক্ষিত ফাইল হারিয়ে যেতে পারে। আইফোনে অনেক অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কারের জন্য অ্যাপের নিজস্ব সেটিংস ব্যবহার করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাপ সরিয়ে আবার ইনস্টল করতে হতে পারে।
৩. হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের অপ্রয়োজনীয় ফাইল সরান
হোয়াটসঅ্যাপের ‘স্টোরেজ অ্যান্ড ডেটা’ অপশন থেকে ‘ম্যানেজ স্টোরেজ’ নির্বাচন করলে কোন ফাইল বেশি জায়গা নিচ্ছে, তা দেখা যায়। বড় ভিডিও, অপ্রয়োজনীয় ছবি ও নথি বেছে মুছে ফেলুন। স্বয়ংক্রিয় মিডিয়া ডাউনলোড বন্ধ বা সীমিত রাখলে প্রতিটি ছবি-ভিডিও নিজে থেকে ফোনে জমবে না। মেসেঞ্জারসহ অন্যান্য অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় মিডিয়া ফাইলও নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
৪. ব্যবহার না করা অ্যাপ ও গেম আনইনস্টল করুন
ফোনে এমন অনেক অ্যাপ থাকে, যেগুলো মাসের পর মাস ব্যবহার করা হয় না। প্রয়োজন না থাকলে সেগুলো আনইনস্টল করে দিন। বিশেষ করে বড় আকারের গেম, ভিডিও সম্পাদনার অ্যাপ এবং একই কাজের একাধিক অ্যাপ সরিয়ে ফেললে উল্লেখযোগ্য জায়গা খালি হতে পারে। তবে কোনো অ্যাপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ফাইল থাকলে আনইনস্টল করার আগে সেগুলোর ব্যাকআপ রাখুন।
৫. ডাউনলোড ফোল্ডার পরিষ্কার করুন
ফোনের ফাইল ম্যানেজার থেকে ডাউনলোড ফোল্ডার খুলে অপ্রয়োজনীয় পিডিএফ, ভিডিও, ছবি, নথি ও এপিকে ফাইল মুছে ফেলুন। একই ফাইল একাধিকবার থাকলে বাড়তি কপিগুলো সরিয়ে দিন। এতে ফোনের স্টোরেজের ওপর চাপ কমবে।
৬. ছবি ও ভিডিও ক্লাউড বা কম্পিউটারে রাখুন
গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও ভিডিও ফোনে জমিয়ে না রেখে গুগল ফটোস, আইক্লাউড কিংবা অন্য কোনো ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করতে পারেন। কম্পিউটার বা বাহ্যিক স্টোরেজেও ব্যাকআপ রাখা সম্ভব। তবে ক্লাউডে ফাইল ঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে ফোন থেকে মূল ছবি বা ভিডিও মুছবেন না। ক্লাউড সেবায় বিনা মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা পাওয়া যায়। এর বেশি ব্যবহার করতে হলে অতিরিক্ত স্টোরেজ কিনতে হতে পারে।
৭. ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
ফোনের জায়গা খালি করার জন্য বিভিন্ন থার্ড পার্টি ক্লিনার অ্যাপ ব্যবহার করেন অনেকে। তবে সব অ্যাপ নিরাপদ বা কার্যকর নয়। কিছু অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন দেখায়, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে কিংবা প্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলতে পারে। তাই অপরিচিত ক্লিনার অ্যাপ ইনস্টল না করে ফোনের নিজস্ব স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা সুবিধা ব্যবহার করাই ভালো।
নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলা, অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ ছবি-ভিডিওর ব্যাকআপ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ফোনের স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হওয়ার সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস