শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১:২৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশে এক বিরল নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যার রং মানুষের চোখে সবুজ দেখাতে পারে। ইংল্যান্ডের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হোল্যান্ডসের নেতৃত্বে একদল গবেষক মৃত নক্ষত্র বা শ্বেত বামন নিয়ে গবেষণার সময় এই ব্যতিক্রমী নক্ষত্রটি আবিষ্কার করেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণত নক্ষত্রের রং নির্ভর করে তার তাপমাত্রার ওপর। এ কারণে নক্ষত্রকে সচরাচর কমলা, সাদা কিংবা নীল রঙের দেখায়। তবে বিশেষ কিছু শ্বেত বামন নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডল ও ভৌত পরিবেশ এতটাই অস্বাভাবিক যে সেগুলোর আলোতে দেখা যায় ভিন্ন রঙের বৈশিষ্ট্য। নতুন আবিষ্কৃত সবুজ নক্ষত্রটি বিজ্ঞানীদের কাছে তেমনই এক চমক।
নক্ষত্রটির সবুজ রঙের পেছনে মূল রহস্য হিসেবে এর বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য উপাদানের অস্বাভাবিক বিক্রিয়ার কথা বলছেন গবেষকেরা। কোনো নক্ষত্র তার জীবনকালে আশপাশের যেসব বস্তুর সংস্পর্শে আসে, সেগুলোর ওপর নির্ভর করেও তার বাহ্যিক রঙে পরিবর্তন ঘটতে পারে।
এই সবুজ নক্ষত্রে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের মতো ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কীভাবে এসব উপাদান নক্ষত্রটিতে এসেছে, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ধারণা, কোনো পাথুরে গ্রহাণু কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রহ মৃত নক্ষত্রটির খুব কাছে চলে এলে এর প্রবল মহাকর্ষীয় টানে সেটি ভেঙে গুঁড়ো ধূলিকণায় পরিণত হয়। পরে ওই ধূলিকণা নক্ষত্রের পৃষ্ঠে মিশে যায়।
বিজ্ঞানীরা পুরো ঘটনাটিকে মহাকাশের একটি রহস্যময় ‘অপরাধস্থল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শ্বেত বামন নক্ষত্র আশপাশের গ্রহকে ভেঙে নিজের মধ্যে শোষণ করে নিতে পারে। আর নক্ষত্রের গায়ে থাকা রাসায়নিক উপাদানের চিহ্ন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা শত কোটি বছর আগের মহাজাগতিক ঘটনাপ্রবাহের সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।
পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষ দূরত্বের মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি শ্বেত বামন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে সবুজ নক্ষত্রটির পাশাপাশি গোলাপি বা ‘স্যামন পিঙ্ক’ রঙের আরেকটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। ওই নক্ষত্রটির পৃষ্ঠে ঘন কার্বনের স্তর রয়েছে।
এত দূর থেকে নক্ষত্রগুলোকে খালি চোখে কিংবা সাধারণ দূরবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা সম্ভব নয়। তাই নক্ষত্রগুলো থেকে আসা আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও বর্ণালী বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা হিসাব করেছেন, মানুষের চোখে সরাসরি দেখলে সেগুলো কেমন রঙের দেখাত। দূরবর্তী মহাজাগতিক বস্তুর বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে মানুষের দৃশ্যমান অভিজ্ঞতার এই সংযোগ মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, শিগগিরই নতুন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের সাহায্যে আরও হাজার হাজার নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও অন্তত ১০ থেকে ১২টি বিরল সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে তাদের ধারণা।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘আরএএসটিআই’-তে এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস