ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

২০ আশ্বিন ১৪৩৩, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮

চার্জিং ছাড়াও টাইপ-সি পোর্টের ৮ সুবিধা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২:৫৬, ৫ অক্টোবর ২০২৬

চার্জিং ছাড়াও টাইপ-সি পোর্টের ৮ সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন প্রযুক্তিতে টাইপ-সি বা ইউএসবি-সি পোর্ট একটি সার্বজনীন মান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অ্যাপল কিংবা অ্যান্ড্রয়েড—প্রায় সব ব্র্যান্ডই এখন তাদের ডিভাইসে এ পোর্ট ব্যবহার করছে।

তবে অনেকেই মনে করেন, চার্জিং ক্যাবল সংযুক্ত করা ছাড়া স্মার্টফোনের এ পোর্টের আর তেমন কোনো কাজ নেই।

বাস্তবতা হলো, আধুনিক স্মার্টফোনের এ ছোট্ট পোর্টটি ডিভাইসটিকে অনেকটা ছোটখাটো কম্পিউটারে রূপান্তর করার সক্ষমতা রাখে। চার্জ দেওয়া ছাড়াও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে টাইপ-সি পোর্ট ব্যবহার করা যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক স্মার্টফোনের টাইপ-সি পোর্টের ৮টি কার্যকর ব্যবহার—

১. অন্য ডিভাইস চার্জ করা

আপনার ইয়ারবাডস কিংবা বন্ধুর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে টাইপ-সি টু টাইপ-সি ক্যাবল ব্যবহার করে নিজের স্মার্টফোন থেকেই অন্য ফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ইয়ারফোনে চার্জ দিতে পারবেন। অর্থাৎ প্রয়োজনে নিজের ফোনটিই পাওয়ার ব্যাংকের মতো ব্যবহার করা সম্ভব।

২. পেনড্রাইভ ও মেমোরি কার্ড যুক্ত করা

ইন্টারনেট বা ইমেইল ব্যবহার না করে বড় কোনো ফাইল দ্রুত আদান-প্রদান করতে চাইলে টাইপ-সি পোর্টযুক্ত পেনড্রাইভ কিংবা মেমোরি কার্ড রিডার সরাসরি স্মার্টফোনে যুক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে সহজেই ফোন ও স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে ফাইল স্থানান্তর করা সম্ভব। বিশেষ করে ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারদের জন্য এ সুবিধা বেশ কার্যকর।

৩. কীবোর্ড সংযোগ করে টাইপ করা

স্মার্টফোনের ছোট স্ক্রিনে দীর্ঘ কোনো নথি কিংবা জরুরি অফিসিয়াল ইমেইল টাইপ করা অনেক সময় বেশ ঝামেলার। টাইপ-সি পোর্টের মাধ্যমে তারযুক্ত সাধারণ কীবোর্ড ফোনে সংযুক্ত করে দ্রুত টাইপ করা যায়। এতে স্মার্টফোনকে ছোট একটি ওয়ার্কস্টেশনের মতো ব্যবহার করা সম্ভব।

৪. মনিটর বা টিভিতে ডিসপ্লে শেয়ার করা

স্মার্টফোনের ছোট পর্দায় সিনেমা দেখা কিংবা প্রেজেন্টেশন দেওয়া কঠিন হলে টাইপ-সি টু এইচডিএমআই অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে ফোনকে বড় মনিটর বা টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এটি স্ক্রিন কাস্টিংয়ের তুলনায় কম ব্যাটারি খরচ করে এবং ল্যাগ ছাড়াই স্মুথ ডিসপ্লে দিতে পারে।

৫. পেশাদার মানের অডিও রেকর্ড করা

কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য শব্দের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টাইপ-সি পোর্টে সরাসরি এক্সটার্নাল নয়েজ ক্যানসেলিং মাইক্রোফোন কিংবা অন্য কোনো এক্সটার্নাল মাইক্রোফোন যুক্ত করে সহজেই পরিষ্কার ও উন্নত মানের অডিও রেকর্ড করা সম্ভব।

৬. লসলেস মিউজিকের জন্য তারযুক্ত হেডফোন

স্মার্টফোনে ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার অডিও জ্যাক না থাকলেও সমস্যা নেই। টাইপ-সি অডিও অ্যাডাপ্টার কিংবা সরাসরি টাইপ-সি পোর্টের তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করে কোনো ধরনের মান কমানো ছাড়াই হাই-রেজুলেশন অডিও উপভোগ করা যায়।

৭. নিরবচ্ছিন্ন গেমিং অভিজ্ঞতা

ব্লুটুথ কন্ট্রোলারে অনেক সময় প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য বিলম্ব দেখা দিতে পারে। টাইপ-সি পোর্টে সরাসরি প্লেস্টেশন, এক্সবক্স কিংবা বিশেষ পোর্টেবল গেমিং প্যাড সংযুক্ত করে খেললে এই বিলম্ব এড়িয়ে আরও স্মুথ গেমিং অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব।

৮. পেশাদার ও বৈজ্ঞানিক গ্যাজেট পরিচালনা

টাইপ-সি পোর্টের ব্যবহার শুধু সাধারণ কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই পোর্টের মাধ্যমে এন্ডোস্কোপ ক্যামেরার মতো প্রয়োজনীয় গ্যাজেট স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত করে মেকানিক ও টেকনিশিয়ানরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

এমনকি দুর্গম এলাকাতেও স্বাস্থ্যকর্মীরা স্মার্টফোনের সঙ্গে টাইপ-সি পোর্টযুক্ত পোর্টেবল আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস সংযুক্ত করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।

অতএব, স্মার্টফোনের টাইপ-সি পোর্টকে কেবল চার্জ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে না দেখে এর বিভিন্ন সুবিধা কাজে লাগালে দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও কার্যকর করা সম্ভব।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন