ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

২৬ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

দৈনন্দিন কাজ সহজ করবে যেসব ৫টি এআই টুল

সাইদুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৯:১৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:১৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দৈনন্দিন কাজ সহজ করবে যেসব ৫টি এআই টুল

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বদলে যাচ্ছে কাজের ধরন। অফিসের কাজ, পড়াশোনা, গবেষণা কিংবা কনটেন্ট তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। আগে যে কাজ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এখন এআই টুলের সহায়তায় তার অনেকটাই করা সম্ভব হচ্ছে অল্প সময়ে।

লেখালেখি থেকে শুরু করে ছবি তৈরি, অডিও থেকে লেখা প্রস্তুত এবং তথ্য অনুসন্ধান—বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতে পারে এমন পাঁচটি এআই টুলের ব্যবহার জেনে নেওয়া যাক।

১. চ্যাটজিপিটি ও ক্লড (ChatGPT ও Claude)

লেখালেখি, অনুবাদ, দীর্ঘ প্রতিবেদন বা নিবন্ধের সারসংক্ষেপ তৈরি এবং বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা পেতে ব্যবহার করা যায় চ্যাটজিপিটি ও ক্লড। ইমেইল, প্রতিবেদন, সংবাদ বা প্রবন্ধের খসড়া তৈরিতেও এগুলো সহায়ক। পাশাপাশি বড় নথি বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলাদা করা এবং নতুন ধারণা তৈরির কাজেও ব্যবহার করা যায়।

তবে এআইয়ের তৈরি তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে সংবাদ, গবেষণা ও গুরুত্বপূর্ণ নথির ক্ষেত্রে মূল সূত্রের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত।

২. গ্রামারলি ও কুইলবট (Grammarly ও QuillBot)

ইংরেজি লেখার বানান, ব্যাকরণ ও বাক্যগঠন ঠিক করতে গ্রামারলি ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে, কুইলবট লেখাকে নতুনভাবে সাজানো, বাক্যের গঠন পরিবর্তন এবং কোনো লেখার ভাষা আরও সাবলীল করতে সহায়তা করে।

শিক্ষার্থী, গবেষক, চাকরিপ্রার্থী ও পেশাজীবীদের ইমেইল, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন কিংবা অন্যান্য পেশাগত লেখার মান উন্নত করতে টুল দুটি কাজে লাগতে পারে। তবে লেখার মূল বক্তব্য ও তথ্য ঠিক আছে কি না, তা ব্যবহারকারীকেই নিশ্চিত করতে হবে।

৩. ক্যানভা ম্যাজিক স্টুডিও (Canva Magic Studio)

গ্রাফিক ডিজাইনের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ক্যানভার এআইভিত্তিক সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ব্যানার, প্রেজেন্টেশন, প্রচারমূলক গ্রাফিকস ও ফিচার ছবির নকশা তৈরিতে এটি সহায়ক।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু সুবিধার মাধ্যমে ছবি সম্পাদনা, ব্যাকগ্রাউন্ড সরানো এবং টেক্সটের নির্দেশনা অনুযায়ী নকশা তৈরির কাজ করা যায়। ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দ্রুত মানসম্মত ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট প্রস্তুত করতে পারে।

৪. অটার এআই (Otter.ai)

মিটিং, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও রেকর্ডিংয়ের বক্তব্য লিখিত আকারে রূপান্তরের কাজে অটার এআই ব্যবহার করা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে অডিও শুনে হাতে লিখে নেওয়ার পরিবর্তে এর সহায়তায় কথোপকথনের ট্রান্সক্রিপ্ট তৈরি করা সম্ভব।

এ ছাড়া মিটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, সিদ্ধান্ত ও করণীয় বিষয়গুলো সংক্ষেপে সাজাতেও এটি সহায়তা করতে পারে। সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও অফিসকর্মীদের জন্য এ ধরনের টুল সময় সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে বাংলা ভাষার অডিওসহ বিভিন্ন ভাষায় এর কার্যকারিতা ব্যবহারের আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

৫. পারপ্লেক্সিটি এআই (Perplexity AI)

অনলাইনে তথ্য খোঁজা ও গবেষণার প্রাথমিক কাজ সহজ করতে পারপ্লেক্সিটি এআই ব্যবহার করা যায়। এটি বিভিন্ন অনলাইন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সূত্রের লিংকও দেখায়।

সাম্প্রতিক ঘটনা, কোনো বিষয়ের পটভূমি কিংবা গবেষণার জন্য প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে এটি কাজে আসতে পারে। তবে সূত্রের লিংক দেওয়া হলেই তথ্য নির্ভুল—এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মূল সূত্রে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

এআই ব্যবহারে বাড়বে কাজের গতি

সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এআই টুল দৈনন্দিন কাজের সময় ও শ্রম কমাতে পারে। তবে এগুলোকে মানুষের বিচার-বিশ্লেষণের বিকল্প হিসেবে না দেখে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করাই ভালো। তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই, ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সুরক্ষা এবং কনটেন্টের মান বজায় রাখার দিকে নজর রেখে এআই ব্যবহার করলে এর সুবিধা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন