শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪:১০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্যে পর্যটন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তনশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ এই দিনে পর্যটনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভাবুন, হাতে সময় মাত্র পাঁচ দিন। বাজেট ৫০ হাজার টাকা। পছন্দ সমুদ্র, স্থানীয় খাবার ও নিরিবিলি পরিবেশ। এই তথ্যগুলো একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটকে জানালেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তৈরি হয়ে যেতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা। কোথায় থাকবেন, কী খাবেন, কোন দর্শনীয় স্থান ঘুরবেন, সবকিছুর পরামর্শ মিলতে পারে একসঙ্গে।
প্রযুক্তির এই সুবিধা নিঃসন্দেহে ভ্রমণকে সহজ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তথ্য খোঁজার পরিবর্তে কয়েক মিনিটেই পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ। বাজেট অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলে নেওয়া যাচ্ছে। তুলনা করা যাচ্ছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এমনকি পরিকল্পনায় পরিবর্তন এলেও নতুন করে তৈরি করা যাচ্ছে ভ্রমণের পথ।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি বলতে পারবে ভোরের আলো ফুটতেই বারাণসীর কোন গলিটি হঠাৎ অন্যরকম মনে হয়? পাহাড়ি গ্রামের ছোট্ট চায়ের দোকানটি কেন স্থানীয় মানুষের কাছে এতটা আপন? কিংবা কোনো জায়গায় গিয়ে হঠাৎ মনে হলো, আরও একদিন থেকে যাই, সেই অনুভূতিটা কি কোনো যন্ত্র বুঝতে পারবে?
ভারত ও বাংলাদেশে এরই মধ্যে ভ্রমণ পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক ভারতীয় ভ্রমণকারী ছুটির পরিকল্পনা, গন্তব্য নির্বাচন ও ভ্রমণসূচি তৈরিতে এই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন।
তবে বাস্তব ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেক সময় পরিকল্পনার বাইরে তৈরি হয়। হিমালয়ের কোনো রাস্তা বৃষ্টির পর কঠিন হয়ে গেছে। স্থানীয় চালক ভোরে রওনা হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিংবা অচেনা কোনো ছোট পথই হয়ে উঠল পুরো ভ্রমণের সবচেয়ে স্মরণীয় অংশ। এসব তথ্য সবসময় যন্ত্রের কাছে থাকে না।
একটি শহরকে সত্যিকার অর্থে বুঝতে হলে প্রয়োজন স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাও। দোকানদার আপনার আগের অর্ডার মনে রাখলেন। কোনো গাইড প্রজন্মের পর প্রজন্মের গল্প শোনালেন। কিংবা অপরিচিত কেউ বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। এসব অভিজ্ঞতার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই।
তাই ভবিষ্যতের ভ্রমণ হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বনাম মানুষ নয়, বরং দুয়ের সমন্বয়ের পথেই এগোবে। প্রযুক্তি জানাবে কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন এবং কত খরচ হতে পারে। আর মানুষ যোগ করবে অনুভূতি, স্থানীয় জ্ঞান, বিচারবোধ ও স্মৃতি।
কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো একটি গন্তব্য চিনিয়ে দিতে পারে। কিন্তু সেই জায়গাকে ভালো লাগা কিংবা আপন করে নেওয়ার অনুভূতিটা এখনো একান্তই মানুষের।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস