শিরোনাম
পুলক রাজ
প্রকাশ: ২০:৩১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
বর্তমান সময়ে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক বিশাল ও বহুমুখী সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব কেবল গণপরিবহনের ভাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি পুরো দেশের অর্থনীতিতে একটার পর একটা বড় ধরনের মারাত্মক প্রভাব ফেলতে থাকে। এর ফলে আমাদের নিত্যদিনের বাজার থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এর গভীর চাপ সৃষ্টি হয়।
তেলের দাম বাড়ার সরাসরি ফলাফল হিসেবে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও সবজিসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বহুগুণ বেড়ে যায়। নির্দিষ্ট আয়ের সীমিত ও দরিদ্র মানুষের পক্ষে এই বর্ধিত দামের বাজারে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। গাড়িভাড়া অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় দেশের দূরদূরান্তের গ্রাম থেকে শহর কিংবা স্থানীয় বাজারে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার খরচও অনেক বেশি পড়ে যায়। ফলস্বরূপ, উৎপাদন পর্যায় থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি পণ্যের অতিরিক্ত খরচের পুরো বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতার ওপরই এসে চাপে।
অন্যদিকে, দেশের বড় বড় কলকারখানা, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পণ্য উৎপাদন ও পরিচালনার খরচ অনেক বেড়ে যায়। জেনারেটর বা অন্যান্য বিকল্প উপায়ে কাজ চালিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয়, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও তীব্র করে তোলে। এই অস্বস্তিকর ও ব্যয়বহুল বাজারে খেটে খাওয়া দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীরা সবচেয়ে বেশি অসহায় অবস্থায় পড়েন। তাদের পক্ষে কোনোমতে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কিংবা পরিবারের জরুরি চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই নিত্যদিনের কষ্ট ও মানুষের চরম দুর্ভোগ কমানো বা উপশম করতে হলে সরকারকে খুব দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে এবং বাসের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদেশ থেকে তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও কম খরচে ব্যবহার করা যায় এমন বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সহনীয় ও নিরাপদ রাখতে দ্রুত সঠিক ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই