শিরোনাম
পুলক রাজ
প্রকাশ: ২০:২১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:২২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে গাড়ির জ্যাম আর হট্টগোলের মধ্যে হঠাৎ করেই বেজে ওঠে এম্বুলেন্সের সাইরেন, যেন বুক চিরে বেরিয়ে আসা কোনো আর্তনাদ। ভেতরে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন একজন মুমূর্ষু রোগী, যার প্রতিটি সেকেন্ড এখন অত্যন্ত মূল্যবান। উন্নত বিশ্বের আধুনিক ও সুশৃঙ্খল নগরব্যবস্থায় এ ধরনের জরুরি বাহনকে সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেখানে রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে এম্বুলেন্সের জন্য পথ খালি করে দেয়, যাতে মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছে রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের চিত্রটি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এখানকার অপরিকল্পিত ট্রাফিক সিগন্যাল, সড়কের বেহাল দশা এবং তীব্র অসহনীয় যানজটের কারণে মাঝপথেই থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হয় জীবন বাঁচানোর এই বাহনটি। আমাদের বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির চরম ঘাটতি রয়েছে। যার ফলে ট্রাফিক সিগন্যালগুলো কোনোভাবেই এম্বুলেন্সের মতো জরুরি বাহনের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পথ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে চালকরা বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির জ্যামে আটকে থাকেন। এই মূল্যবান সময়ে সঠিক ও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে বহু রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। এমনকি অনেক সময় চিকিৎসকদের চোখের সামনেই অকালেও ঝরে যায় অসংখ্য তাজা প্রাণ।
দুর্ভোগ ও জীবনমৃত্যুর সংকট নিরসনে এম্বুলেন্স চালকরা ও সচেতন নাগরিক সমাজ দীর্ঘকাল ধরে একটি অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মূল দাবি হলো, যেকোনো মূল্যে প্রতিটি প্রধান সড়কের পাশে এম্বুলেন্সের জন্য একটি করে আলাদা ইমার্জেন্সি লেন বা জরুরি যাতায়াতের পথ তৈরি করে দেওয়া। উন্নত দেশের মতো যদি এমন একটি ডেডিকেটেড বা পৃথক লেন থাকে, তবে আর যানজটে আটকে থাকতে হবে না। খুব সহজেই অ্যাম্বুলেন্সগুলো জ্যাম এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে বা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।
পাশাপাশি, ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে স্বয়ংক্রিয় এম্বুলেন্স শনাক্তকরণের আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সিগন্যাল পয়েন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এম্বুলেন্সের অবস্থান বুঝতে পারবে এবং এর জন্য সবুজ বাতি জ্বালিয়ে পথ উন্মুক্ত করে দেবে। তবে শুধু প্রযুক্তি আর অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনলেই চলবে না, আমাদের সাধারণ মানুষের মানসিকতাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। সড়কে চলার সময় পেছনে এম্বুলেন্সের সাইরেন শুনলেই তাচ্ছিল্য না করে দ্রুত পথ ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। অন্যের জীবন বাঁচানোর এই লড়াইয়ে সহযোগিতা করা এবং একজন সংকটাপন্ন মানুষের পথ সুগম করে দেওয়া আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই