শিরোনাম
পুলক রাজ
প্রকাশ: ২০:১৪, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: পুলক রাজ
ঢাকার প্রাণকেন্দ্র কমলাপুর রেলস্টেশন কেবল একটি যাতায়াত মাধ্যম বা লোহালক্কড়ের বিশাল জংশন নয়, এটি হাজারও মানুষের বেঁচে থাকার অন্তহীন লড়াইয়ের এক জীবন্ত মঞ্চ। প্রতিদিন পেটের দায়ে কঠিন সংগ্রাম করে চলেছেন এখানকার ছিন্নমূল মানুষ। প্ল্যাটফর্মের ইট-কাঠ, ওভারব্রিজের তলা কিংবা ট্রেনের বগির চাকা, এটাই তাদের একমাত্র ঠিকানা। কেউ জীবনের তাগিদে গ্রাম ছেড়ে আসা অসহায় বৃদ্ধ, কেউ বা মা-বাবা হারানো এতিম শিশু।
সারাদিন ভারী মালপত্র মাথায় বয়ে, প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে কিংবা ছোটখাটো হকার হিসেবে জীবন চালান তাঁরা। তীব্র রোদ, মুষলধারে বৃষ্টি কিংবা প্রকৃতির কোনো রূপই তাদের পিছুটান হতে পারে না। পেটের ক্ষুধায় ক্লান্তি তাদের কাছে বিলাসিতা মাত্র।
রেলস্টেশনের এই মানুষগুলোর গল্প কেবল অসহায়ত্বের নয়, বরং তা কঠিন বাস্তবতার সাথে প্রতিদিন লড়াই করে বেঁচে থাকার এক অদম্য মানসিকতার দলিল। ট্রেনের হুইসেল তাদের কাছে নতুন কোনো গন্তব্যের হাতছানি নয়, বরং এক বেলা দুমুঠো ভাতের অনিশ্চিত লড়াইয়ের নিত্যদিনের আর্তনাদ। সমাজ থেকে কিছুটা দূরে থাকা এই মানুষগুলো নীরবেই আমাদের সভ্যতার এক অন্যরকম চালিকাশক্তি।
প্লাটফর্মের প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে আছে একেকটি দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস। রাতের নিস্তব্ধতায় যখন শহর ঘুমিয়ে পড়ে, তখন এই মানুষগুলোর চোখের পাতা এক হয় না। স্টেশনের ঠান্ডা মেঝেতে কিংবা কোনো রিকশার সিটে শরীর এলিয়ে দিয়ে তারা পরদিনের বেঁচে থাকার স্বপ্ন বোনে। তাদের এই বেঁচে থাকার লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দেয় নগরজীবনের ঝিলমিল আলোর পেছনের কঠোর সত্যটিকে।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তা কিংবা সামান্য মানবিক সহানুভূতি এই মানুষগুলোর মলিন মুখে হাসি ফোটাতে পারে। কিন্তু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো মানুষের বড়ই অভাব। তবুও শত বঞ্চনা আর অবহেলায় জর্জরিত হয়েও তারা হার মানে না।
কমলাপুরের চাকাওয়ালা কংক্রিটের ছাদের নিচে প্রতিদিন যে নির্মম সত্যের মুখোমুখি আমরা হই, তা কেবল দীর্ঘশ্বাসের গল্পে সীমাবদ্ধ না রেখে, এই উপেক্ষিত মানুষগুলোর জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য আশ্রয় নিশ্চিত করাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই