শিরোনাম
পুলক রাজ
প্রকাশ: ১৩:১৬, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর ভয়াবহ অবনতি ঘটছে। বর্ষার মৌসুম দীর্ঘায়িত হওয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এডিস মশার উপদ্রব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় চাপ গিয়ে পড়েছে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর, যা দীর্ঘদিন ধরেই ডেঙ্গু চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেপ্টেম্বর মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই হাসপাতালটির প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিল ধারণের ঠাঁই না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে এমনকি সিঁড়ির পাশের ফাঁকা জায়গায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগে শত শত নতুন রোগী আসছেন। এর মধ্যে শিশু ও প্রবীণ রোগীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় জটিলতা দ্রুত বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর এই বিপুল চাপে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত সাধারণ সিট বা কেবিনগুলোর একটিও খালি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেককে আবার ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু হাসপাতাল বাড়িয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। রাজধানীর এডিস মশার প্রধান উৎসস্থলগুলো ধ্বংস করা এবং মশার বংশবিস্তার রোধে চিরুনি অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি। সিটি কর্পোরেশনগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানোর কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ড্রেন, জমে থাকা বৃষ্টির পানি এবং নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে মশার লার্ভা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এখনই কার্যকর ও সমন্বিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা না গেলে পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করা এবং সামান্য জ্বর হলেই দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি ও জনসচেতনতার মাধ্যমেই কেবল এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই