ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ কার্তিক ১৪৩৩, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

রিকশায় ছিনতাই ও মৃত্যু! কতটা নিরাপদ ঢাকা?

পুলক রাজ

প্রকাশ: ১৮:৫৩, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিকশায় ছিনতাই ও মৃত্যু! কতটা নিরাপদ ঢাকা?

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

রাজধানীর বুকে রিকশায় চড়ে চলা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা কতটা চরমে পৌঁছেছে, তা বগুড়া থেকে চিকিৎসা করাতে আসা শিক্ষিকা রনজিনা পারভীনের মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে প্রমাণ করেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের মতো দেশের অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকার সামনে ছিনতাইকারীর টানে চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে তার প্রাণহানির ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ঢাকা শহরের এই অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় বাহনটি এখন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে ভিড়ভাট্টাভরা প্রধান সড়ক, সবখানেই রিকশার অবাধ যাতায়াত এবং এর ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরশীলতা অপরিসীম। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভোরবেলা কিংবা গভীর রাতের মতো ফাঁকা সময়ে চলন্ত রিকশায় নারী যাত্রীদের ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল ফোন বা মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যন্ত আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেলে ওত পেতে থাকা পেশাদার ছিনতাইকারীরা চোখের পলকে ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে যাত্রীরা পিচঢালা রাস্তায় আছড়ে পড়ে মারাত্মকভাবে জখম হন, এমনকি রনজিনা পারভীনের মতো অকালেও জীবন হারাতে হয়।

এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে চরম অসহায়ত্বের শিকার হন সাধারণ রিকশাচালকরাও। আকস্মিক ও হিংসাত্মক আক্রমণের মুখে তাদের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়া কিংবা ছিনতাইকারীদের প্রতিহত করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ প্রতিদিন পেটের দায়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শহর ঘোরানো এই খেটে খাওয়া চালকরাও এই ভঙ্গুর ও অনিরাপদ ব্যবস্থার এক বিশাল অংশীদার। যাত্রীর নিরাপত্তা দিতে না পারার অপরাধে অনেক সময় তাদের পুলিশি হয়রানি বা সামাজিক প্রবঞ্চনার মুখোমুখি হতে হয়।

একটি আধুনিক ও সভ্য শহরে মানুষ উন্নত চিকিৎসা, শিক্ষা বা জীবিকার তাগিদে এসে এভাবে রাজপথে অকালে প্রাণ হারাবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রিকশাযাত্রী ও নিরীহ চালকদের সার্বিক সুরক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজন ভোর ও রাতের ফাঁকা সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের জোরালো ও দৃশ্যমান টহল বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে অকার্যকর সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল রাখা এবং যাত্রীদের ব্যক্তিগত পর্যায়েও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

রিকশাকে নগরবাসীর জন্য পুনরায় একটি নিরাপদ বাহনে রূপ দিতে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একা নয়, বরং প্রশাসন ও সচেতন সমাজ উভয়কেই সম্মিলিতভাবে কঠোর হাতে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের নিয়মিত নিয়তিতে পরিণত হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন