শিরোনাম
পুলক রাজ
প্রকাশ: ১৬:৩৯, ২৯ আগস্ট ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আজ আর কোনো বিচ্ছিন্ন বা আঞ্চলিক সংকট নয়। বরং এটি পুরো মানবজাতির অস্তিত্বের প্রতি এক গভীর ও তাৎক্ষণিক হুঁশিয়ারি। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হলেও, এই সংকট কেবল একটি দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
অতীতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যে সমস্ত দেশ একের পর এক প্রাকৃতিক তাণ্ডবের মুখোমুখি হয়েছে। সেগুলোর প্রতিটি ঘটনা আমাদের বুকের ভেতর এক ধরনের শূন্যতা ও চরম আতঙ্ক তৈরি করে গেছে। এই নির্মম বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আমাদের দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় এখনই কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আজকের এই আধুনিক যুগে আমরা অন্ধের মতো প্রযুক্তির জয়জয়াকারে মত্ত হয়ে আছি এবং প্রতিদিন নিজের অজান্তেই নিজের সর্বনাশ ডেকে আনছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডিজিটাল উন্নয়নের নেশায় মত্ত হয়ে আমরা প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে চলেছি আমাদের চারপাশের সবুজ প্রকৃতি। আকাশছোঁয়া দালানকোঠা আর যান্ত্রিক সভ্যতার মোহে আমরা এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে বাস করছি। যেখানে গাছপালা, পাহাড়, নদী আর উন্মুক্ত প্রান্তরের গুরুত্ব ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। কেবল ডিজিটাল রূপান্তর বা প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন করতে করতে যদি আমাদের সবুজ পৃথিবী একদিন চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়, তবে সেই উন্নত প্রযুক্তির কোনো অর্থই আর থাকবে না।
যখন চারদিকে শুধু খাঁ খাঁ করা শূন্যতা আর ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকবে, তখন কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেগাসিটি মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে পারবে না। প্রযুক্তির এই অতি নির্ভরতা আমাদের এতটাই অনুভূতিহীন করে তুলেছে যে, প্রকৃতি যে আমাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে, সে কথা আমরা ভুলেই বসে আছি।
সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এই বিপর্যয় রোধ করা অসম্ভব। শুধু প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না, দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ জায়গা থেকে পরিবেশ নিয়ে ভাবতে হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের নদীগুলোর দখল ও দূষণ রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাহাড় কাটা বন্ধ করে এবং নির্বিচারে গাছ কাটার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বৃক্ষরোপণকে একটি বাধ্যতামূলক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। কারণ প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে ভারসাম্য বজায় রাখে এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে সে যখন প্রতিশোধ নেয়, তখন মানুষের সমস্ত অহংকার ও প্রযুক্তি ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।
সময় থাকতে নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করে সচেতন না হলে পৃথিবীর এই ধ্বংসলীলা থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে না। প্রযুক্তির উন্নতি হোক এবং দেশ ডিজিটাল হোক, কিন্তু তা যেন আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই প্রকৃতিকে বলি দিয়ে না হয়। একটি বাসযোগ্য পৃথিবী টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, নতুবা এই পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব কেবল এক দীর্ঘশ্বাস হয়েই থেকে যাবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই