ঢাকা, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

২১ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

সেগুনবাগিচায় গ্রাফিতিতে জীবন্ত হয়ে ওঠা গুণীজনেরা

পুলক রাজ

প্রকাশ: ১০:৪৮, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫২, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সেগুনবাগিচায় গ্রাফিতিতে জীবন্ত হয়ে ওঠা গুণীজনেরা

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

রাজধানীর যান্ত্রিক ও কোলাহলপূর্ণ জীবনে ফুটপাত মানেই হকারদের দখল, ভাঙাচোরা রাস্তা আর হাঁটার দুর্ভোগ। তবে এই চেনা চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতকে অবৈধ দখল থেকে পুরোপুরি মুক্ত করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

শুধু উদ্ধার করাই নয়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং নান্দনিক সৌন্দর্যে ফুটপাতটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, যা নগরবাসীর নজর কাড়ছে।

সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে এই ফুটপাতে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু জনবান্ধব উপাদান। পথচারীদের হাঁটার সুবিধার পাশাপাশি ময়লা ফেলার জন্য বসানো হয়েছে নতুন ডাস্টবিন। দীর্ঘ পথ হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পড়া সাধারণ মানুষের ক্ষণিকের বিশ্রামের জন্য স্থাপন করা হয়েছে সুন্দর বসার বেঞ্চ। এছাড়া ফুটপাতসংলগ্ন সীমানাপ্রাচীরগুলো মেরামত ও আকর্ষণীয় রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে।

এই সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষক দিক হলো দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতি। ফুটপাতের লম্বা দেয়ালজুড়ে স্থান পেয়েছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির বরেণ্য ১০ জন গুণী ব্যক্তিত্বের অবয়ব ও গ্রাফিতি। এর মধ্যে রয়েছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। শিল্প-সংস্কৃতির আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের এমন সম্মাননা পথচারীদের মাঝে অন্যরকম এক ভালোলাগার সৃষ্টি করছে। ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেও মানুষ এক পলক তাকিয়ে স্মরণ করছেন দেশের এই কীর্তিমান পুরুষদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন এবং ফুটপাতগুলোকে জনবান্ধব করতে ডিএসসিসির এই উদ্যোগ একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে। ইট-পাথরের এই শহরে এ ধরনের নান্দনিক ও সাংস্কৃতিক ছোঁয়া নগরবাসীকে মানসিক প্রশান্তি দেয়। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশের সংস্কৃতি ও গুণীজনদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগাতেও এই গ্রাফিতিগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে। তবে নগরবাসীর এখন মূল প্রত্যাশা, উদ্ধার করা এই ফুটপাত যেন পুনরায় হকার বা অবৈধ দখলের শিকার না হয়।

ডিএসসিসির পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এর স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করা দরকার। সেগুনবাগিচার এই সফল উদ্যোগ যদি রাজধানীর অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে ঢাকা ধীরে ধীরে একটি সত্যিকারের বাসযোগ্য, পরিপাটি ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন