শিরোনাম
পুলক রাজ
প্রকাশ: ১৩:৩৭, ৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪০, ৩ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি রূপসজ্জাশিল্পী বঙ্গজিৎ দত্তের ২৬তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী রূপসজ্জা কর্মশালার আয়োজন করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে এ স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গজিৎ দত্ত প্রয়াণ দিবস উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন লাকী ইনাম, দেবপ্রসাদ দেবনাথ, খন্দকার শাহ আলম ও নাট্যকর্মী আইরিন পারভীন লোপা। অনুষ্ঠানে তিন দিনব্যাপী রূপসজ্জা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
কর্মশালাটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নাট্যম রেপার্টরি, মেঘদূত নাট্য সম্প্রদায় ও বিবেকানন্দ থিয়েটার। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল থিয়েটার ডিজাইনা।
১৯৩৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার ঠাটারীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গজিৎ দত্ত। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর বাবা সুরেশ দত্ত ছিলেন অভিনেতা, পরিচালক, সংগঠক ও রূপসজ্জাশিল্পী। ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তি ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
নবাবপুর প্রিয়নাথ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন বঙ্গজিৎ দত্ত। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি রূপসজ্জায় প্রশিক্ষণ এবং হোমিওপ্যাথিতে ডিগ্রি নেন।
কর্মজীবনের শুরুতে সরকারি দুর্নীতি দমন বিভাগে চাকরি করলেও পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, পোগোজ স্কুল ও ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেন তিনি। তবে নাটক ও রূপসজ্জার প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁকে শেষ পর্যন্ত এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখে।
ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেন বঙ্গজিৎ দত্ত। যুদ্ধের সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন। এ সময় তাঁর বাবা সুরেশ দত্ত মারা যান। স্বাধীনতার পর দেশের নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা, সংগঠক ও রূপসজ্জাশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন বঙ্গজিৎ দত্ত। তবে রূপসজ্জাশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। নাট্যাঙ্গনের মানুষের কাছে তিনি ‘বঙ্গজিৎ দা’ বা ‘বঙ্গদা’ নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর হাতের নিপুণ স্পর্শে মঞ্চে জীবন্ত হয়ে উঠত নাটকের বিভিন্ন চরিত্র।
বাংলাদেশের রূপসজ্জাশিল্পের বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, নাট্যচক্র, লোকনাট্য দল, বহুরূপী, চতুরঙ্গ, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ও ঢাকা ড্রামাসহ বিভিন্ন সংগঠনের সম্মাননা পান। এ ছাড়া বাচসাস পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি।
২০০০ সালের ১ নভেম্বর রাত ১১টা ১৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন এই গুণী শিল্পী। মৃত্যুর মাত্র এক ঘণ্টা আগেও তিনি রূপসজ্জার কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে তাঁর স্মৃতিচারণে উঠে আসে।
বঙ্গজিৎ দত্তের ছেলে শুভাশীষ দত্ত তন্ময়ও বাবার আদর্শ অনুসরণ করে একই পেশায় যুক্ত রয়েছেন। বাবার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তিনি রূপসজ্জা কর্মশালার আয়োজন করেন। কর্মশালার মাধ্যমে তরুণ নাট্যকর্মীদের মধ্যে বঙ্গজিৎ দত্তের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই