শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:৫৪, ৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৮, ৩ নভেম্বর ২০২৬
ছবি : পিএমও
কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ী উপায়েই দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার কাজ করছে। এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে কর ও শুল্ক সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।
নেট মিটারিং ব্যবস্থায় নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সরকার প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা কিনবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ডিজেলের মজুদ বাড়ানো, কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতের অতীত ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা না বাড়িয়ে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ এবং বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
কৃষি খাতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পকে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ খাতে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই