ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

১৯ কার্তিক ১৪৩৩, ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

এক কোটি চশমা দেবে সরকার!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:০২, ৩ নভেম্বর ২০২৬

এক কোটি চশমা দেবে সরকার!

ছবি: সংগৃহীত

দেশের নাগরিকদের অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি দূর করতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষের চোখের ছানি অপারেশন এবং এক কোটি চশমা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সময়ের মধ্যে জাতীয় রেফারেল সুবিধার মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি মানুষকে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ব চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলনে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সরকারের এ পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। সম্মেলনে তাঁর ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা সরকারের আয়োজনে এ বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ।

ভিডিও বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিহীনতা শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সম্ভাবনা বিকাশে সুস্থ দৃষ্টিশক্তি অপরিহার্য।

বাংলাদেশের অবস্থান ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই কোটি মানুষকে সম্প্রসারিত রেফারেল সুবিধার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি দৃষ্টিত্রুটি দূর করতে এক কোটি চশমা বিতরণ এবং ১০ লাখ মানুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের চোখ পরীক্ষা এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই জাতীয় অঙ্গীকার। জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্ধত্ব ও দৃষ্টিত্রুটি প্রতিরোধ, সচেতনতা তৈরি এবং এর বিস্তার রোধে কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।

নাগরিকদের জন্য সার্বজনীন চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সবার জন্য স্পষ্ট দৃষ্টি বা ‘ক্লিয়ার ভিশন’ নিশ্চিতের এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টা মানব ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন