শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪:২৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফাইল ছবি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার ও করদাতা সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এবারের রাজস্ব কৌশলকে তিনটি মূলনীতির ওপর সাজিয়েছে এনবিআর। এগুলো হলো—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনর্বহাল) ও রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)।
রিকভারি কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। রেস্টোরেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো ও ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, রিকনস্ট্রাকশন কৌশলের আওতায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে চায় এনবিআর।
গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সরকারি ব্যয়ের চাহিদা পূরণে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ব্যবধান কমানো এবং সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়।
চলতি অর্থবছরের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, ভ্যাট অনুবিভাগের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস অনুবিভাগের জন্য ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার, উৎসে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং কর পরিপালন জোরদারের পরিকল্পনা করেছে এনবিআর। এ ছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির কর কাঠামো ও বিনিয়োগে কর রেয়াতের পরিবর্তন, মূলধনি মুনাফার ওপর কর আরোপ এবং করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করছে এনবিআর।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই