ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০ আশ্বিন ১৪৩৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮

৫২ বছরে আবাদি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ, প্রতিদিন হারাচ্ছে ৩০৭ একর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:৫৮, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫২ বছরে আবাদি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ, প্রতিদিন হারাচ্ছে ৩০৭ একর

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

দেশে গত ৫২ বছরে আবাদি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ। নগরায়ণ, শিল্পায়ন, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট নির্মাণের কারণে প্রতিদিন ৩০৭ একর জমি হারিয়ে যাচ্ছে। তবে জমি কমলেও কৃষি উৎপাদনে বড় অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৭১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ গুণ। একই সময়ে গমের উৎপাদন বেড়েছে ১৭ দশমিক ২৭ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ২ হাজার ২৬৬ দশমিক ৬৭ গুণ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক এগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক কর্মশালার সমাপনী দিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যদের জন্য তিন দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো. আবদুছ ছালাম। তিনি সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

ড. আবদুছ ছালাম বলেন, দেশে প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ বাড়ছে। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে জমি কমছে শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ হারে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন ৩০৭ একর জমি শিল্পায়ন, নগরায়ণ, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে চলে যাচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, সরকার এখন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস’ বা জিএপির আওতায় পাঁচটি ফল ও ১০টি সবজি আবাদে জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ লাখ হেক্টর জমি এ পদ্ধতির চাষাবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ড. আবদুছ ছালাম বলেন, ভালো মাটি ও বীজ হলে উৎপাদন এমনিতেই ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যও রয়েছে।

তিনি জানান, স্বাধীনতার সময় দেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের হার ছিল ৫০ শতাংশ। বর্তমানে তা কমে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, স্বাধীনতার পর দেশে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩৩ লাখ হেক্টর। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ২০ দশমিক ০৫ লাখ হেক্টরে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে এ পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টর।

লবণাক্ততা মোকাবিলায় লবণাক্ত, পাহাড়ি ও নিচু জমিতে জোনভিত্তিক উপযোগী ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজে লাগানো হচ্ছে।

বিএআরসির পরিচালক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা জানান, শস্যবীমা চালুর জন্য প্রাথমিকভাবে একটি গাইডলাইন তৈরি করে জুলাইয়ে খসড়া জমা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখীর চাষ বাড়ানো হবে। এ জন্য আগামী মৌসুমের আগেই খুলনা ও বরিশালে তেল কারখানা স্থাপন করা হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইনল্যান্ডের পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন বলেন, প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করছে। ২০২৪-২৫ সালে দেশে ৫১ দশমিক ১১ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। মাছ চাষে যুক্ত রয়েছেন ১৪ লাখ নারী।

তবে হাওর, নদী, খাল-বিলসহ মিঠাপানির প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন কমেছে বলেও জানান তিনি।

বিএআরসির প্রাণিসম্পদ বিভাগের সদস্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এ খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

তিনি বলেন, বর্তমানে একজন মানুষ দৈনিক চাহিদার ১২০ গ্রামের বিপরীতে ১৪৭ দশমিক ৮৪ গ্রাম মাংস গ্রহণ করছেন। তবে দুধের ক্ষেত্রে ২৫০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ২০৮ গ্রাম। সুস্থ থাকতে তিনি প্রতিদিন দুটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন।

তিন দিনব্যাপী কর্মশালায় ১৫ জন প্রশিক্ষক কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ১৫টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন