ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮

ভারতীয় রুপির বিপরীতে আরও শক্তিশালী বাংলাদেশি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩:৪৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতীয় রুপির বিপরীতে আরও শক্তিশালী বাংলাদেশি টাকা

ফাইল ছবি

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এর মধ্যে গত এক বছরেই টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি। ২০২৫ সালের একই দিনে ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭০ রুপি।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এক টাকার বিপরীতে ভারতীয় রুপি পাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৫ পয়সা। এতে রুপির বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিপরীত হিসাবেও টাকার শক্তিশালী অবস্থান দেখা যায়। ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ২৮ পয়সা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা।

অর্থাৎ, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম লাগছে। এ হিসাবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির দাম ছিল ১ টাকা ৪৩ পয়সা। সেই হিসাবে দুই বছরে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও টাকার শক্তিশালী অবস্থানের চিত্র পাওয়া গেছে। ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ দশমিক ২৭৮৯ থেকে ১ দশমিক ২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ০ দশমিক ৭৮১ থেকে ০ দশমিক ৭৮২ ভারতীয় রুপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা লাগবে। কাঁচামাল, শিল্প উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারকরাও এর সুফল পেতে পারেন। এসব পণ্য আমদানিতে মুদ্রা বিনিময়জনিত ব্যয়ের অংশ কমে আসতে পারে।

তবে বিনিময় হারের এ পরিবর্তনের প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক-কর এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে।

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে জানান তিনি। রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য তুলনামূলক বেশি থাকলে আবাসন, খাবার, যাতায়াতসহ স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কমতে পারে।

তবে শুধু বিনিময় হার দিয়ে আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারিত হয় না বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন