শিরোনাম
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭:১৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চরে ধরলা নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও আবাদি জমির পর এবার মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কবরস্থানও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগমনের চরে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে রয়েছে জগমনের চর। এরই মধ্যে ফসলি জমি, বসতভিটা ও খেলার মাঠসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, একসময় জনবসতিপূর্ণ জগমনের চরের বড় একটি অংশ এখন নদীতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চরের শেষ অস্তিত্বটুকুও হারিয়ে যাবে।
ভাঙনের হুমকিতে থাকা মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কবরস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। এসব স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হলে শিক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম ও দাফনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়েও সংকটে পড়তে হবে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা কোবাদ আলী বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও জমি হারাতে হয়। নতুন করে ঘর বাঁধলেও নদী সেখানে থাকতে দেয় না। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া চর রক্ষা সম্ভব নয়।
আরেক বাসিন্দা কাশেম আলী বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। নদীভাঙনের যে পরিস্থিতি, তাতে বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে গেলে শত শত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নদীভাঙন নিয়ে আতঙ্ক দেখা যায়। স্থানীয়দের শঙ্কা, আজ যে বাড়িটি আছে, আগামী বর্ষায় সেটি থাকবে কি না—তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভাঙনকবলিত এলাকা টেকসইভাবে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তারা।
তাদের ভাষ্য, আর কোনো পরিবার যেন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব না হয় এবং কোনো শিশুর বিদ্যালয় যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়। এ জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই