ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

২৬ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগোল রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭:২২, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগোল রূপপুর

ফাইল ছবি

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে প্রথম ইউনিটে সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ। রোববার (১১ অক্টোবর) ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে এ বিক্রিয়া শুরু হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এ পর্যায়কে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।

ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি হলো চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়া স্বনির্ভরভাবে ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে চলতে শুরু করার পর্যায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এখনই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েক ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

এর আগে ইউনিটটির স্বয়ংক্রিয় চাপ নিয়ন্ত্রণকারী নিরাপত্তা ভালভে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ পর্যায়ের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যার সমাধান করা হয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়।

ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে এর শক্তি বাড়ানোর কাজ চলবে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, সব পরীক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতে পারে।

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। পরে চুল্লির রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটি থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন